টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের রেজল্যুশন বইতে ঘষামাজা করে তিন নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নিজেকে এক নম্বর দেখিয়ে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন কারাবন্দি থাকায় ৩ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এ খবর জানাজানি হওয়ার পর পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে বাঁশতৈল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান মিল্টন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট নতুন পরিষদের প্রথম সভায় তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এতে পরিষদের সদস্য শেফালী বেগমকে ১ নম্বর, মোয়াজ্জেম হোসেনকে ২ নম্বর ও মো. আবদুল মান্নানকে ৩ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে রেজুলেশন অনুমোদন করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন গত বছর ২৭ ডিসেম্বর থেকে একটি হত্যা মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের বিধান রয়েছে। এতে এক নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আসীন হওয়ার বিধান থাকলেও রেজুলেশন বইতে এক নম্বর সিরিয়ালে থাকা শেফালী বেগমের নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা মো. আবদুল মান্নানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে। এছাড়া দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে দ্বিতীয় প্যানেল চেয়ারম্যান লেখা ঠিকই আছে। তিন নম্বরে থাকা আবদুল মান্নান প্রতারণা করে সাদা কাগজে সদস্যদের নাম ও স্বাক্ষর নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিষদের কয়েকজন সদস্য গত বুধবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বাঁশতৈল ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য শেফালী বেগম (৭, ৮, ৯) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের বিধান রয়েছে। তিনি এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তার নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান লেখা হয়েছে। এছাড়া তিন নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা আছে। পরে বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেককে জানানো হয়।
তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা ইউপি সদস্য মো. আবদুল মান্নানের কাছে তার নামের পাশে ঘষামাজা করে এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’
দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান তিন নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পরিষদের রেজুলেশন বইতে ঘষামাজা করে এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে তিন নম্বর লেখা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
আর বাঁশতৈল ইউপির সচিব মো. সোহেলুর রহমান বলেন, ‘নতুন পরিষদের প্রথম সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। প্রথম সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে কীভাবে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করা হয়েছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
