বিএডিসির আলুবীজ কিনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:১৩ এএম

‘বিএডিসির হিমাগার থেকে আলুবীজ কিনে আমার সর্বনাশ হয়েছে। প্রতারিত হয়েছে আমার মতো এলাকার অনেক কৃষক। রোপণকৃত আলুবীজ থেকে চারা গজাইলেও ৮৫ ভাগ গাছের নিচে কোনো আলু গজায়নি। বর্তমানে গাছের পাতা হলুদ বর্ণের হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে প্রতিদিন।’

এভাবেই কান্নার সুরে সাংবাদিকের কাছে বলছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাঠানকান্দি গ্রামের আলুচাষি হারুন অর রশিদ মঞ্জু। স্থানীয় কৃষি র্কমকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে এলাকার চাষিদের অভিযোগ।

এদিকে, হিমাগারের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন হওয়ার কথা নয়। গজানো চারা হলদে হয়ে মরে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাঠানকান্দির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হারুন অর রশিদ মঞ্জু আরও জানান, তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) হিমাগার থেকে গত ৩ নভেম্বর ২২ হাজার টাকায় ৪৮০ কেজি আলুবীজ কিনে জমিতে রোপণ করেন। কিন্তু বীজ থেকে চারা গজালেও ৮৫ ভাগ গাছে কোনো আলু হয়নি। আর চারাগাছগুলো হলুদে হয়ে একের পর এক মরে যাচ্ছে। বিএডিসির বীজ কিনে এমন ক্ষতির মুখে এলাকার আরও অনেক কৃষক পড়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আমার ধারণা, হিমাগারের কর্মকর্তারা বাইরে থেকে কম খরচে নষ্ট আলুবীজ কিনে কৃষকদের কাছে তা চড়াদামে বিক্রি করেছেন। যার ফলে কৃষকরা এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি মৌখিক ও লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ করার পর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের বিএডিসির উপপরিচালক (বীবি) হুমায়ুন কবির সরেজমিন তদন্ত করেছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের খিলপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. ওমাইজা আক্তার বলেন, আলুর জমি পরিদর্শন করেছি। আলু না হওয়া এবং গজানো চারাগাছ মরে যাচ্ছে। এটা আসলে বীজবাহিত রোগ, যার কোনো প্রতিষেধক নেই।

কিশোরগঞ্জ বিএডিসির হিমাগারের যুগ্ম উপপরিচালক বদর উদ্দিন ভূঞা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখেছি। এমন হওয়ার কথা নয়। বীজ থেকে চারা হলেও আলু না গজানো এবং চারা মরে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত