হিমালয় সংলগ্ন লাদাখের বিতর্কিত প্যাংগং লেক এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে ভারত ও চীন। গত জুন মাসে ওই এলাকায় প্রাণঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল দুই দেশের সেনারা। ভারত ও চীনের অন্তত ২৪ জন সৈন্য নিহত হয় সে ঘটনায়।
ভারত ও চীনের সীমান্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় তা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্যাংগং লেকের উত্তর ও দক্ষিণ তীরে দু’পক্ষই বিপুল পরিমাণ সেনা জমায়েত করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল।
১১ ফেব্রুয়ারি প্যাংগং লেক এলাকা থেকে দু’দেশই তাদের সৈন্যদের সরিয়ে নেবার ইচ্ছের কথা ঘোষণা করে। এরপর থেকে সৈন্য সরিয়ে নেবার কাজ চলছিল।
এরপরের কয়েকদিনে ভারত ও চীনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়। এ সময় চীন প্রথমবারের মতো স্বীকার করে যে জুন মাসের সংঘর্ষে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছিল।
অবশেষে বিতর্কিত এলাকাটি থেকে দুই দেশেই তাদের সেনা সরিয়ে নিল। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচার করা এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
ভারত ও চীনের মধ্যে গত বহু দশক ধরে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা চলছে এবং ১৯৬২ সালে তাদের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছে।
দু’দেশের মধ্যে মোট দুই হাজার ১০০ মাইল সীমান্ত রয়েছে, যা বহু জায়গাতেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। দু'দেশই এখন বলছে যে, দীর্ঘ সীমান্তের অন্য এলাকাগুলোতেও শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করবে তারা।
গত সপ্তাহে গালওয়ান উপত্যকায় চীন ও ভারতের সৈন্যদের মধ্যেকার জুন মাসের সংঘর্ষের একটি ভিডিও প্রকাশ করে চীনা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবারই প্রথমবারের মতো চীন স্বীকার করে যে ওই ঘটনায় তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছিল।
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয় ‘বিদেশি সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করার সময়’ তাদের সৈন্যরা নিহত হয় - যারা সীমান্ত পেরিয়ে চীনের ভুখণ্ডে ঢুকেছিল।
ভারত অবশ্য দাবি করে যে চীনা পক্ষে নিহত সৈন্যের সংখ্যা আরো বেশি। গালওয়ান উপত্যকার ওই রক্তাক্ত সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছিল।
সীমান্তের ওই এলাকায় দু’দেশের সৈন্যদের মধ্যে গত ৪৫ বছরে এটাই ছিল প্রথম মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা। এ বছর জানুয়ারি মাসে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সিকিম সীমান্তেও দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আরো একদফা সংঘর্ষ হয়।
