মধ্যরাতে চার ইবি ছাত্রীকে হেনস্তা বখাটেদের

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪১ এএম

বাসায় অবস্থান করেও মধ্যরাতে বখাটেদের হেনস্তার শিকার হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চার ছাত্রী। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজারের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই চার ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা প্রতিকারের আশায় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকার একটি বাসায় তারা চারজন থাকেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তিন-চার যুবক ওই বাসার জানালায় আঘাত করতে থাকে। একই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তখন চার ছাত্রী প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজন চলে আসে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বখাটেরা পালিয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী বিভাগের শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট ড. সেলিনা নাসরিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে তারা কেউই কল রিসিভ করেননি। এছাড়া শৈলকুপা থানা পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাদের কেউই তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি। পরে রাত ২টার দিকে আবারও বখাটেরা বাসার জানালার কাছে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তখন ভুক্তভোগী ছাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে আবারও প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেনকে ফোন করেন। এবার অবশ্য তিনি ফোন রিসিভ করে বিষয়টি অবহিত হন। এরও দুই ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পুলিশ আসে। কিন্তু ততক্ষণে বখাটেরা পালিয়ে যায়, আর পুলিশ ঘটনা শুনে চলে যায়। এরপর সকালে একজন সহকারী প্রক্টর ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বলছেন, রাত ১২টার ঘটনা প্রক্টর ও পুলিশকে অবহিত করার পরও রাত ৪টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এ সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিপদের সময় তাদের পাশে কেউ ছিলেন না। এমন নিরাপত্তাহীনতায় তারা থাকতে চান না। একই সঙ্গে অতি দ্রুত জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকালের দিকে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে প্রক্টর স্যার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে রাত থেকে আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি জানিয়েছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত