জিয়াউর রহমানকে কেউ খাটো করতে পারবে না : ফখরুল

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:০৭ এএম

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খেতাব কেড়ে নিয়ে  মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে  কেউ খাটো করতে পারবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আগে বলেছি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সিদ্ধান্ত কখনই দেশের মানুষ মেনে নেবে না, এটা গ্রহণযোগ্য হবে না এদেশের মানুষের কাছে। জিয়াউর রহমানের অবদানকে কেউ খাটো করে দেখাতে চাইলে খাটো করে দেখাতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জিয়াউর রহমান বীরউত্তম খেতাব অর্জন করেছেন। এটা কারও দয়ায় পাওয়া নয়। যুদ্ধ করেছেন উনি এবং সেটা উনি পেয়েছেন, স্বাধীনতার  ঘোষণা করেছেন উনি সেটা অর্জন করেছেন। সুতরাং এটা নিয়ে আমরা মনে করি যে, জিয়াউর রহমানের কোনো রকমের কোনো ক্ষতি তারা করতে পারবে না।’

সিঙ্গাপুরে টিকা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে বিদেশিদের টিকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখানে এসে দেখব কী অবস্থা। রেজিস্ট্রেশন করে তখন চেষ্টা করব।’

শরীরের অবস্থা কেমন প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, ‘ভালো না। আই অ্যাম সিক। আমি অসুস্থ, এখনো সুস্থ নই। সিঙ্গাপুরে ১৪ দিন  কোয়ারেন্টাইনে থেকে তারপর ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফিরছি।’

সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে গভীর  শোক প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ আমার ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি তার মৃত্যু সংবাদে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ নিঃসন্দেহে এই দেশের একজন মানুষ যাকে বলা যেতে পারেÑ এ ম্যান অব ইন্ট্রিগ্রেটি, ম্যান অব অনেস্টি অ্যান্ড ডিগনেটি। ব্যাংকিং সেক্টরে তিনি একজন দিকপাল ছিলেন। দুজনের মৃত্যুতে জাতি দুজন অত্যন্ত যোগ্য মানুষকে হারাল।’

সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে নিয়ে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরের টার্মিনালের হুইলচেয়ারে করে গাড়ির কাছে আসেন এবং হুইলচেয়ারে বসেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। গত ৩০ জানুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে ফারার পার্ক হসপিটালে তার চিকিৎসা হয়।

২০১৫ সালে কারাবন্দি অবস্থায় ঘাড়ে ইন্টারন্যাল ক্যারোটিভ আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়লে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করিয়েছিলেন ৭৩ বছরের ফখরুল। এর চিকিৎসা বাংলাদেশে না থাকায় প্রতি বছরই ফলোআপ করতে তাকে সিঙ্গাপুর যেতে হয়। সবশেষ ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর তিনি সিঙ্গাপুর যান।

লাবলু/শব্দ ৩৫৮

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত