পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ধীর গতিতে চলছে এ অভিযোগ করে চলতি বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত বিচারের রায় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যুগ আগে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এ দাবি জানান দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি সে সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে তদন্ত হয়েছিল তার রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ফয়সালা করা সম্ভব হয়নি। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা আমাদের হতাশ করেছে, দেশবাসী মর্মাহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। চলতি বছরের মধ্যে লিভ টু আপিল এবং আপিলের কার্যক্রম শুরু হবে এমন কোনো আশা, এমন কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের প্রতি আমরা আবেদন জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই বছরের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে, চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিচারিক আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে সবাইকে আনা হয়নি, কয়েকজনকে আনা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে যারা পরিকল্পনাকারী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী তারা এখন পর্যন্ত পর্দার অন্তরালে রয়েছে। দেশবাসীর সামনে তাদের পরিচিতি স্পষ্ট নয়। আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাব, হত্যাকাণ্ডের যারা পরিকল্পনাকারী দেশি-বিদেশি শক্তিসমূহ, ষড়যন্ত্রকারী তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’
তিনি বলেন, ‘পিলখানার হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এর সুষ্ঠু বিচার এবং তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু বিচার কামনা করি। এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার জন্য। এর বেনিফিশিয়ারি কারা সেটিও দেশবাসী পরিষ্কার জানতে চায়।’
এ সময় মেজর (অব.) হাফিজ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। তখন এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের যারা মূল পরিকল্পনাকারী তাদের বিচার এ দেশে হবে।’
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা নিহতদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. ইসহাক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মনিষ দেওয়ান, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হানিফ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সারোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাঈদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হাসান, বিএনপি নেতা শামীমুর রহমান শামীমুর, শাহ খালেদ হাসান চৌধুরী, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি : ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সদর দপ্তরে সেনা হত্যা দিবসটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
