এমারেল্ড অয়েলের পর্ষদ পুনর্গঠন করল এসইসি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ১১:৫৭ পিএম

ঋণ জালিয়াতির মামলায় পলাতক উদ্যোক্তাদের কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানিটির বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে পাঁচজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে কমিশন। গতকাল কমিশন পর্ষদ পুনর্গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার কারণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এমারেল্ড অয়েলের। ঋণ জালিয়াতির মামলায় উদ্যোক্তা পরিচালকরা জড়িয়ে পড়ায় মূলধন সংকটে বন্ধ হয়ে যায় এমারেল্ড অয়েলের উৎপাদন। গত চার বছর ধরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি শেয়ারহোল্ডারদের। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ, লভ্যাংশ দিতে না পারা, জেড ক্যাটাগরিতে অবস্থান ও বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের দায়ে এমারেল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করল এসইসি।

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হককে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গতকাল পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে এসইসি। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য স্বাধীন পরিচালকরা হচ্ছেন বিআইবিএমের প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, সজিব হোসেইন ও সন্তোষ কুমার দেব। এর বাইরে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে আরও দুজন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের এমারেল্ড অয়েলের ২ শতাংশ বা তারচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে। শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নিয়োগ হলে এমারেল্ড অয়েলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ৭-এ উন্নীত হবে।

কোম্পানিটির বর্তমান পরিচালকদের কেউ পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব কিংবা নির্বাচিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে বর্তমান পর্ষদের ধারণ করা শেয়ারও বিক্রয় বা স্থানান্তরে পূর্বের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ ছাড়া কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোম্পানির কোনো সম্পদ বিক্রি, জামানত রাখা কিংবা স্থানান্তর করা যাবে না।

মূলত এমারেল্ড অয়েলের উৎপাদন শুরু করে কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলো। তবে কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমারেল্ড অয়েল বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য নতুন করে উৎপাদন শুরু করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে। বর্তমানে কোম্পানির ঋণ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াতে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ও ব্যাংক এশিয়ায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। দুদকের মামলা থাকার কারণে ২০১৯ সালে বেসিক ব্যাংকে ঋণ পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মোট ঋণের ২ শতাংশ জমা দেওয়ার পরও তা পুনর্গঠন হয়নি। আবার ব্যাংক এশিয়ার ঋণ পুনর্গঠন হলেও পরবর্তী সময়ে তা আবার খেলাপিতে পরিণত হয়। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি কোম্পানিটির কাছে আরও প্রায় ১৪ কোটি টাকার পাওনা রয়েছে।

কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, এমারেল্ড অয়েল চালু করতে হলে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যাংকঋণই একমাত্র ভরসা। তবে খেলাপি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় ব্যাংকঋণও পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে।

এমারেল্ড অয়েলের পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে ২০১৬ সালে  কোম্পানিটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে এমারেল্ড অয়েল বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ৭৪  কোটি টাকার ঋণ সুবিধা নেয়, যা বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ওই ঋণ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক পরিচালক মিলিয়ে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এ মামলায় কোম্পানির প্রধান উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হাসিবুল গনি গালিব কিছুদিন জেলও খেটেছেন। পরে জামিন নিয়ে গনিসহ মোট তিন উদ্যোক্তা পরিচালক বিদেশে পালিয়ে যান, যাদের হাতে কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ারের বড় অংশ রয়েছে। এরপর থেকেই চরম সংকটে পড়ে কোম্পানিটি। ২০১৬ সালের পর কোনো নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত