হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অভিযান চালিয়ে ট্যাংক বিধ্বংসী ১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার করেছে বিজিবি। গত মঙ্গলবার বিকেলে গহিন বন থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বুধবার সাতছড়িতে সংবাদ সম্মেলনে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এন এম সামীউন্নবী চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা গহিন বনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি কয়েক দিন ধরে চিমটিবিল ও সাতছড়ি এলাকায় নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে উদ্যানে বিজিবির বিশেষ দল অভিযানে যায়। তারা সীমান্ত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশ অভ্যন্তরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অস্ত্রের সন্ধান পায়। পরে মাটি খুঁড়ে পলিথিনে মোড়ানো ১৮টি রকেট লঞ্চারের গোলা উদ্ধার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে এই বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রকেটগুলো কোন দেশের তৈরি তা জানার চেষ্টা চলছে। নতুন রকেট লঞ্চারের গোলার কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে পুরনোগুলো ট্যাংক ধ্বংসসহ আরও বেশি ক্ষতিসাধনে সক্ষম।’
এবারসহ সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সপ্তমবারের মতো অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাল। ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফা অভিযানে র্যাব ৩৩৪টি কামান বিধ্বংসী রকেট, ২৯৬টি রকেট চার্জার, একটি রকেট লঞ্চার, ১৬টি মেশিনগান, একটি বেটাগান, ৬টি এসএলআর, একটি অটো রাইফেল, ৫টি মেশিনগানের অতিরিক্ত খালি ব্যারেল, ১৬ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। একই বছরের ১৬ অক্টোবর চতুর্থ দফার অভিযানে গহিন বনে মাটি খুঁড়ে ৩টি মেশিনগান, ৪টি ব্যারেল, ৮টি ম্যাগাজিন, ২৫০ রাউন্ড গুলির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি বেল্ট ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরের দিন ১৭ অক্টোবর এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের ১৫২, পিস্তলের ৫১৭, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম দফায় অভিযান চালিয়ে ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ এমএম অ্যান্টি-ট্যাংক রকেট উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সপ্তম দফা অভিযানে উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
