লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ঘিরে আন্দোলন নিয়ে পেছন থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী বাতাস দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আমাদের নতুন প্রজন্ম এই জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমাদের দেশে নানাভাবে যে অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধ করা সহায়ক হবে।’ গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সদ্য প্রয়াত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ অনেক এগিয়ে গেছে এবং বিএনপির দলাদলি-নেতিবাচক রাজনীতি না থাকলে দেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যেত। কাগজে দেখলাম মির্জা ফখরুল সাহেব সম্প্রতি বলেছেন, ৫০ বছরে আমরা শুধু দলাদলি করেছি, দেশ আগায়নি। আমি তাকে বলব, আপনি ঢাকা কলেজে পড়াতেন, আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, যদিওবা অহরহ বিএনপির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে প্রচ- অসত্য কথা বলতে হয়, কিন্তু আপনি একজন মার্জিত মানুষও বটে। আজকে যে দেশ এতদূর এগিয়ে গেছে, ভারত-পাকিস্তানসহ সারা বিশ^ সেটি অনুধাবন করেছে আর আপনি সেটি অনুধাবন করতে পারলেন না! জাতিসংঘ সার্টিফিকেট দিয়েছে যে দেশ স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সমগ্র মানুষের নিরাপত্তার জন্য। সাংবাদিক, গৃহিণী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সবাইকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। যে কারও চরিত্রহরণ করা হলে তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এ আইন। অবশ্যই এই আইনের অপপ্রয়োগ যাতে না হয়, সে জন্য আমরা সতর্ক আছি এবং অপব্যবহার হওয়া কাম্য নয়।’
সদ্য প্রয়াত এ টি এম শামসুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কখনো ভাবিনি, এই বরেণ্য অভিনয়শিল্পী এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। তিনি ইতিপূর্বেও বহুবার অসুস্থ হয়েছেন আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এবার তার মৃত্যু সংবাদ আমার কাছে বজ্রপাতের মতোই মনে হয়েছিল। এমন শিল্পীর বাংলাদেশে খুব একটা জন্ম হয়নি।
বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতি জোটের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, অভিনেত্রী তারিন, শাহনুর, কণ্ঠশিল্পী এসডি রুবেল, অভিনেতা শাকিল খান, এ টি এম শামসুজ্জামানের কন্যা কোয়েল আহমেদ প্রমুখ।
