আমিরি বারাকার ‘কেউ আমেরিকা উড়িয়ে দিয়েছে’ কবিতাটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ দুনিয়াব্যাপী পক্ষ-বিপক্ষে তুমুল আলোচনার ঝড় ওঠে। ডকুমেন্টারি ধারার সেই দীর্ঘ কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাজহার জীবন।
লেখালেখির উঠান প্রকাশন দুই মলাটে বন্দী করে কবিতাটি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। প্রচ্ছদ করেছেন আল নোমান।
অনুবাদক মাজহার জীবন এই তথ্য জানালেন।
‘কেউ আমেরিকা উড়িয়ে দিয়েছে’ সম্পর্কে বলেন, নিপীড়ন, রাজবন্দীদের কথা, আমেরিকান কলোনিস্টদের অত্যাচার, রাজনৈতিক হত্যা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা ব্যক্তি ও ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে ৯/১১-এ আমেরিকার ট্রেড সেন্টারে হামলা নিয়ে মূলধারার প্রচারণার বিপরীতে বারাকা তার কাউন্টার ডিসকোর্স দাঁড় করেছেন।
কবিতাটির মূল উদ্দেশ্য নিহত ও আহতদের জন্য বিলাপ কিংবা দুষ্কৃতকারীদের বিচারের দাবি নয়, বরং এটি সাম্রাজ্যবাদ এবং জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ যেটাকে এ ঘটনার মূল কারণ হিসেবে কবি মনে করেছেন। কবিতাটিতে দাসত্ব, উপনিবেশ ও নয়া-উপনিবেশবাদের প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসের কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
আফ্রিকান-আমেরিকান কবি, নাট্যকার এবং কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের নেতা আমিরি বারাকার জন্ম ১৯৩৪ সালে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক। অধ্যাপনা করেছেন আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নেতা ম্যালকম এক্স নিহত হওয়ার পর কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ থেকে মার্কসবাদ ও লেনিনবাদের পক্ষে দাঁড়ান। তার বিখ্যাত কবিতার বই ‘Preface to a Twenty Volume Suicide Note’ এবং নাটক ‘Dutchman’। এ ছাড়া সম্পাদনা করেছেন বিট সাহিত্যধারার ম্যাগাজিন।
২০০২ সালে তাকে নিউ জার্সির পোয়েট লরেট করা হয়, কিন্তু কবিতাটি এক উৎসবে পাঠ করলে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পদটিই বিলুপ্ত করা হয়। আইনগতভাবে তাকে অপসরণের আর উপায়ই ছিল না। ২০১৪ সালে মারা যান আমিরি বারাকা।
এ দিকে ‘কেউ আমেরিকা উড়িয়ে দিয়েছে’ ছাড়াও মাজহার জীবনের অনুবাদে শিগগিরই আসছে হাওয়ার্ড জিনের জীবনীভিত্তিক বিখ্যাত নাটক ‘এমা’। প্রকাশ করছে গ্রন্থিক প্রকাশন। প্রচ্ছদ করেছেন দেওয়ান আতিকুর রহমান।
