নাজিমউদ্দিন-শেবাগের ব্যাটে সেই পুরোনো গল্প

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:২২ পিএম

এ যেন খেলোয়াড়ী জীবনে সেরা ছন্দে থাকা নাজিমউদ্দিন। দারুণ সব শট খেলছিলেন। তার সেই শটগুলো শুধু দর্শক নয়, প্রতিপক্ষ দলে থাকা শচিন টেন্ডুলকার, বিরেন্দ্রর শেবাগদেরও মুগ্ধ করছিল।

কিন্তু ফিফটি থেকে মাত্র ১ রানে দূরে থাকতেই ফিরলেন নাজিমউদ্দিন। এরপর বাংলাদেশ লিজেন্ডস দল মনে করিয়ে দিল সেই পুরোনা দিনকে। বিনা উইকেটে ৫৯ রান থেকে ২ বল বাকি থাকতে ১০৯ রানের অলআউট বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

১১০ রানের ছোট্ট লক্ষ্য শেবাগের ঝড়ো ইনিংসে সহজেই মুঠোতে ভারত লিজেন্ডসের। তাতে ‘রোড সেইফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ’-এ স্বাগতিকদের শুরুটা হলো দাপুটে।

রায়পুরে শুক্রবার সচেতনতামূলক এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ভারত লিজেন্ডস জিতেছে ১০ উইকেটে। ১১০ রানের লক্ষ্য তারা ৫৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলা শেবাগ ৩৫ বলে ৮০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১০টি চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ভারতের সাবেক এই ওপেনার। রফিকের প্রথম ওভারেই ১৯ রান তুলেন। খেলতে থাকেন একই ছন্দে। ২০ বলে পূরণ করে ফেলেন ফিফটি।

প্রথম দুই ওভারে ভারতের ২৯ রানের পুরোটাই ছিল শেবাগের। শচিন রানের খাতা খোলেন তৃতীয় ওভারে। শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৫ চারে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এই কিংবদন্তি।

বাংলাদেশের রফিক, মোহাম্মদ শরিফ, আলমগীর কবির, খালেদ মাহমুদ সুজনরা হাত ঘুরিয়ে সাফল্য পাননি।

প্রায় ৫ বছর আগে খেলা ছেড়েছেন শেবাগ। ৪২ বছর বয়সে সেই শেবাগ যেভাবে ঝড় তুলেছিলেন, শচিনের কথা আলাদা করে রাখলেও এরপর যুবরাজ সিং, ইউসুফ পাঠান, ইরফান পাঠানের মতো সদ্য খেলা ছাড়া তারকারা ছিলেন ব্যাটিংয়ে নামার অপেক্ষায়। তাই বাংলাদেশ ২০০ রানের লক্ষ্য দিলেও সেটা ভারত হয়তো পেরিয়ে যেত সহজেই।

কিন্তু নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে তো আক্ষেপ করতেই পারে মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে ৫০ রান তোলেন নাজিমউদ্দিন-জাভেদ ওমর বেলিম জুটি। জাভেদ স্বভাবসুলভ ধরে খেলছিলেন। প্রজ্ঞান ওঝার বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।

বিপদজনক নাজিমউদ্দিনকে ফেরান যুবরাজ সিংহ। রফিক নেমে পড়েছিলেন চার নম্বরে। তাকে শিকার বানান ইউসুফ পাঠান। এই স্পিন ত্রয়ীতেই ভেঙে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদণ্ড। তা ছাড়া নাজিমউদ্দিন ছাড়া হার্ডহিটার ব্যাট করতে পারেন, এমন স্বীকৃত কোনো ব্যাটসম্যানও ছিল না বাংলাদেশের দলটার একাদশে।

রফিক-রাজ্জাকরা ব্যর্থ হন। শেষ দিকে রাজিন সালেহ ও খালেদ মাসুদ পাইলট পুরোনো দিনকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন। সবার ব্যর্থতার মাঝে রাজিন যেমন একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলে যেতেন, এদিনও তেমন রূপেই দেখা গেছে তাকে। পাঁচ নম্বরে নেমে ২৪ বলে ১ চারে করলেন ১২ রান। আর খালেদ মাসুদ পাইলট নয় নম্বরে নেমে ৫ বলে ৬ রানে থেকে গেলেন অপরাজিত। ম্যাচসেরা হয়েছেন শেবাগ।

সাবেক ক্রিকেটারদের এই আসরে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ রবিবার ইংল্যান্ড লিজেন্ডসের বিপক্ষে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত