ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক সবার মুক্তি চান ৭ ভুক্তভোগী

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:০৪ এএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও সারা দেশে এ আইনে গ্রেপ্তার সবার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন একই আইনে আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাত নাগরিক। বিবৃতিতে তারা কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, একটি রাষ্ট্রের আইন তৈরি করা হয় নাগরিকদের মানবাধিকার সমুন্নত ও সুরক্ষা প্রদান করার জন্য, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে জনগণের জন্য একটি মরণফাঁদ কিংবা নির্যাতনকারীদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মানুষ হত্যাকারী-জনগণের অর্থ লোপাটকারীরা আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিন পেলেও, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় জামিন না পাওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। যখন এমন হয় সেটি আর ন্যায্য আইন বলে পরিগণিত হয় না, হয়ে উঠে গণমানুষের বিরোধী আইন। বর্তমান বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেরকমই একটি নিবর্তনমূলক আইন যা গণমানুষের জন্মগত স্বাধীনতা ও অধিকারসমূহকে রহিত করে।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে মানবাধিকারকেন্দ্রিক নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রেখে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন-২০০৬ সংস্কার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, এই আইনে গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, বিচার প্রক্রিয়ায় কার্টুনিস্ট কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তদন্ত ও বিচার, লেখক মুশতাক আহমেদকে কারা হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর কারণ যথাযথ, প্রয়োজনীয়, গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং সেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সংগঠক ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সংগঠক ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিউর রহমান আশাফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া, আর্কিটেক্ট গোলাম মাহফুজ জোয়ারদার এবং সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত