জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষামন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা ছিল কি না বারবার শুনতে হয়েছে

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ০২:১২ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার ‘যোগ্যতা ছিল’ কি না তা বারবার শুনতে হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আমার আগে ও পরে কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আছে কি না সেই প্রশ্ন কখনো কোনো সাংবাদিক বন্ধু করেননি। আমার নামের সঙ্গে এ বি সি ডি লাগানো থাকলেও আমাকে তা শুনতে হয়েছে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অনভ্যস্ততার তো একটা বিষয় ছিলই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেয়ারে সাংবাদিকরা সব সময় বয়স্ক একজন পুরুষকেই দেখে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে একজন নারী আসায়, যিনি তখন খুব বেশি বয়স্ক নয় সেটা দেখে একটা ধাক্কা লাগতেই পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারীর প্রতি নির্যাতন বিষয়ে আরেক প্রকার নির্যাতন হয়। এটি একটি চরম বৈষম্য। এখন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে আদালতের নির্দেশনা আছে ধর্ষণের শিকার নারীর ছবি ছাপানো যাবে না। ধর্ষক বিচারের রায়ে শাস্তি পায়, আর যে নারী ধর্ষণের শিকার হয় তার জন্য প্রতিদিনই মৃত্যুদন্ড। সারাটা জীবন তাকে অস্পৃশ্য ভাবা হয়। এটা পুরোপুরি মানসিকতার ব্যাপার। একাত্তরে যা হয়েছিল তার থেকে ঘৃণ্য একটি জায়গায় আমরা পৌঁছেছি। তাছাড়া ভাষা একটি খুবই জরুরি বিষয়। আমরা ভাষা দিয়ে কীভাবে একটি নারীকে দাবিয়ে রাখি। যখন কেউ ধর্ষণের শিকার হয় আমরা বলি সম্ভ্রমহানি হয়েছে। আমাকে কুকুর কামড় দিলে তো সম্ভ্রমহানি হয় না। একটা পুরুষ ধর্ষণ করলে একটা নারীর কীভাবে সম্ভ্রমহানি হয়। সম্ভ্রমহানি তো সেই পুরুষের হওয়ার কথা। আমরা কেন সম্ভ্রমহারা পুরুষ বলি না ধর্ষককে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, কবি হাসান হাফিজ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত