টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নারীর ক্ষমতায়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এ বছর ‘টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন : নেতৃত্বে নারী ও সমতা’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালন করছে টিআইবি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে দেশের ২৪টি উপজেলার নারী নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অংশগ্রহণে একই প্রতিপাদ্যে দু’দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় ৪৫টি অঞ্চলে গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং ঢাকা ও সনাকভিত্তিক ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনলাইনে আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, কনটেন্ট রাইটিং প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন যেমন অসম্ভব, সেই সঙ্গে নেতৃত্বে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া জেন্ডার সমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। জেন্ডার অসমতা সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে বাধাগ্রস্ত করে। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হয়। যেসব দেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সাফল্যজনক, সেসব দেশ দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাফল্য পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন কাক্সিক্ষত মাত্রায় অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। আবার দুর্নীতির কারণে পুরুষের তুলনায় নারীর ঝুঁকি বেশি। টিআইবি পরিচালিত জাতীয় খানা জরিপ-২০১৭-এর তথ্যমতে সেবাগ্রহণকারী হিসেবে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, নারীর ওপর সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্নীতির বহুমুখী প্রভাব রয়েছে। নারী যেমন দুর্নীতির শিকার হয়, তেমনি নারী দুর্নীতির মাধ্যম ও সংঘটক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় দুর্নীতির কার্যকর প্রতিরোধে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।’
চলমান কভিড-১৯ প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘করোনা অতিমারী থেকে উত্তরণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সমানতালে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এমন সময়েও নারীদের প্রতি সহিংসতা কিংবা নারীদের অবদমনের প্রক্রিয়া বন্ধ নেই। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, কভিড-১৯ অতিমারীকালে ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ২২ দশমিক ৯৯ শতাংশ নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ নারীর দৈনন্দিন জীবনাচার নিয়ন্ত্রণ এবং ৩৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ নারী অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। আর ৪৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ নারী শারীরিক ও যৌন উভয় ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
