বেশি মাংস দিলেও আমদানি নিষিদ্ধ এই গরু

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ০২:৪৯ পিএম

ব্রাহমা জাতের গরু বাংলাদেশে উৎপাদন ও পালন নিষিদ্ধ না হলেও ২০১৬ সালে এক নীতিমালা দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধের তালিকায় ঢোকানো হয়। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ত্রিশটির মতো এ জাতের গরু আটক করা হয়, যেগুলো মিথ্যা তথ্য দিয়ে আনা হচ্ছিল।

অথচ এ জাতের উৎপাদন বাড়ার কারণে বাংলাদেশে মাংসের উৎপাদন বেড়েছে এবং চাহিদা মেটানো সহজ হয়েছে।

ব্রাহমা জাতের গরু পালন সহজ ও লাভজনক, আর রোগ বালাইও অন্যান্য জাতের চেয়ে কম হওয়ায় স্থানীয় অনেক খামারি এই গরু আমদানি করতে চান।

বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ব্রাহমা জাতের গরু রয়েছে তার প্রায় সবই কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রজনন করা গরু।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিমেন বা বীজ বা শুক্রাণু এনে সরকার কয়েকটি জেলায় স্থানীয় খামারিদের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে এই জাতের গরু উৎপাদন শুরু করে।

সাধারণত একটি পূর্ণবয়স্ক ব্রাহমা জাতের ষাঁড়ের ওজন ৮০০ কেজি থেকে ১০০০ কেজির বেশি হতে পারে। তীব্র গরমে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ব্রাহমা গরু সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল হওয়ার কারণে রোগবালাই অনেক কম হয়।

বাংলাদেশের কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ব্রাহমা জাতের গরু নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। সেগুলোর ফলাফল জানা গেলে আগামী দিনে এ জাতের গরুর উৎপাদন দেশে আরও বাড়বে।

ব্রাহমা জাতের গরু পালন খামারিদের জন্য সহজ এবং লাভজনক হওয়ায়, আর রোগ বালাইও অন্যান্য জাতের গরুর চেয়ে কম হওয়ায় স্থানীয় খামারিদের কাছে অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশে গরুর মাংসের চাহিদা একটি বড় অংশ আসছে ব্রাহমা গরুর মাংস থেকেই।

তবে বিশেষ একটি কারণে বাংলাদেশে এ জাতের গরু আমদানি নিষিদ্ধ। ২০১৬ সালে সরকারের কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালার অধীনে বেসরকারিভাবে এবং ব্যক্তি উদ্যোগে খামারিদের মাধ্যমে ব্রাহমা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করে।

কারণ ব্যাখ্যা করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগের উপপরিচালক ডা. ভবতোষ কান্তি সরকার বিবিসিকে বলেন, এখন খামারিরা সরকারের কাছ থেকে সিমেন নিয়ে প্রজনন ঘটাচ্ছে, কিন্তু আমদানির অনুমতি পেলে খামারিরা ব্যাপক হারে এই গরু উৎপাদন করবে।

“কিন্তু এই জাতের গাভি তার আকৃতি অনুযায়ী অনেক দুধ দেয় না। এখন খামারিরা যদি ব্যাপক হারে ব্রাহমা উৎপাদন করে তাহলে দেশে গরুর দুধের উৎপাদন একেবারেই কমে যাবে। মূলত সেই জন্যই বেসরকারি পর্যায়ে ব্রাহমা গরু আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

সরকারের আশঙ্কা ব্যাপক হারে ব্রাহমা গরু উৎপাদন হলে হোলস্টেইন জাতের বা ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে খামারিরা। এই জাতের গরু দুধের উৎপাদনের জন্য খ্যাত।

বাংলাদেশে দুগ্ধ উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই মূলত নিষিদ্ধ করা হয়েছে ব্রাহমা জাতের গরুর আমদানি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত