ট্রেনে প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন বরাদ্দ কেন নয় : হাইকোর্ট

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০২:৩৫ এএম

যাত্রীবাহী ট্রেনে শুধু নারীদের জন্য পৃথক কামরা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিতে ট্রেনে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। রেলওয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ব্যবস্থাপক ও পরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি জনস্বার্থে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। এতে ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ও ১১৯ ধারা বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আরেকটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন বলেন, রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত কামরার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন যদি ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণ করে, তাহলে সংরক্ষিত কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার রাখার নির্দেশনাও রয়েছে আইনে। ১১৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো পুরুষ যদি কোনো আইনগত কারণ ছাড়া সংরক্ষিত নারী কামরায় প্রবেশ করে, তাহলে রেল কর্র্তৃপক্ষ তাকে জরিমানাসহ টিকিট বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও আইন কার্যকরে কর্তৃপক্ষের কোনোরকম আন্তরিকতা দেখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনে নারীদের পৃথক কামরা না থাকা এবং বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের জন্য আসন বরাদ্দ না থাকায় অনেক সময় চলন্ত ট্রেনে তাদের দাঁড়িয়ে যেতে হয়। এতে করে নিরাপত্তাসহ তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সংশ্লিষ্ট আইনসহ এ বিষয়গুলো আদালতের দৃষ্টিগোচর করা হলে রুল জারি করে হাইকোর্ট। আইনের সংশ্লিষ্ট দুটি ধারা বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত