ভূমি অফিসের কাঁটাতারে বন্দী ৬৫ পরিবার: চিকিৎসা, লাশ পারাপারে ভোগান্তি

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০৬:২৮ পিএম

কাঁটাতারের বাধায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের পাশের ৬৫ পরিবার। ভূমি অফিসের দেওয়া সীমানা প্রাচীর তিন শ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে।

বারবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ধারে ধারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সেখানে মানুষ মারা গেলেও মরদেহের খাটিয়া কিংবা অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীবাহী স্ট্রেচার বা মৃত ব্যক্তির খাটিয়া কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীরের ভেতর দিয়ে আনা-নেয়া করতে হয়।  

স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ ধরে শুভপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেঁষা উপ-সড়কে যাতায়াত করে আসছিলেন জয় চাদপুর গ্রামের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দারা। সম্প্রতি ভূমি অফিস কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীর দেওয়ায় সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ওই সড়কের পথচারীরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ভূমি অফিসে যোগাযোগ করেও রাস্তাটি কাঁটাতার মুক্ত করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন জানান, তার মা জাহানারা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়ার কারণে অ্যাম্বুলেন্স বাড়ির সামনে আসতে পারেনি। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে রোগীবাহী স্ট্রেচারটি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কাঁটাতারের নিচ দিয়ে মাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।  

আছিয়া আক্তার নামে একজন জানান, একজন মানুষ মারা গেলে তার মরদেহ বাড়ির বাইরে নেয়ার রাস্তাও তাদের নেই। এ ছাড়া কোনো গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার রাস্তাও তাদের থাকবে না, যদি ভূমি অফিস তাদের চলাচলের রাস্তা না দেয়।

এলাকাবাসী বলছেন, শুভপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পশ্চিম ও উত্তর পাশে জয়চাঁদপুর গ্রামের দুই নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ বছর ধরে ৬৫টি পরিবারের তিন শতাধিক মানুষের বসবাস। চলাচলের ক্ষেত্রে শুভপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জায়গার ওপর দিয়ে তাদের মূল সড়কে ওঠার জন্য যাতায়াত করতে হয়। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস সরকারি সম্পত্তির বেদখল ও নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা উন্মুক্ত রাখার জন্য লিখিত আবেদন করলেও কোনো ফল হয়নি।

image

স্থানীয় শুভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সেলিম জানান, রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় জনচলাচলে সমস্যার কথা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। সাবেক জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য মৌখিকভাবে জায়গাও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আবার সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। ভূমি অফিস একটি জরুরি অফিস। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা সরকার ইচ্ছে করলেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে পারে। সংরক্ষণের জন্য যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করতে পারে। সরকারি জায়গা সরকার না চাইলে সাধারণ মানুষের ব্যবহার করার নিয়ম নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত