নিজেদের মালিকাধীন জায়গা পরিষ্কার না রাখায় এবং সেখানে মশার বংশ-বিস্তার উপযোগী পরিবেশ থাকায় সরকারি দুটিসহ মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল সোমবার দক্ষিণখানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে রেলওয়ে, সিভিল এভিয়েশন ও আশিয়ান সিটির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। পরে ডিএনসিসির অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদের বরাত দিয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ডিএনসিসি জানায়, ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম গতকাল সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পেছনে, হাজি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা, আশিয়ান সিটি এলাকা এবং দক্ষিণখান বাজার এলাকায় চলমান সমন্বিত মশক নিধন অভিযান (ক্রাশ প্রোগ্রাম) পরিদর্শন করেন। বিমানবন্দরের পেছনে রেলওয়ের একটি খালে ময়লা-আবর্জনা, নোংরা ও বদ্ধ পানি এবং সেখানে অসংখ্য মশার লার্ভা দেখতে পেয়ে মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, এরপর মেয়র পাশেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) একটি জায়গায় বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা, আবর্জনার স্তূপ, বদ্ধ পানি, মশার অসংখ্য লার্ভা দেখতে পান। তিনি হাজি ক্যাম্পের পাশে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটি বিশাল জলাশয়েও একই দৃশ্য দেখতে পান। হাজি ক্যাম্পের বিপরীত দিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটি স্থানেও বিপুল পরিমাণ পলিথিন, আবর্জনা, জঙ্গল, জঞ্জাল। এগুলো দেখে তিনি সিভিল এভিয়েশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিভিল এভিয়েশন এলাকা থেকে বের হয়ে তিনি হাজি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে হেঁটে আশিয়ান সিটি পরিদর্শন করেন। সেখানেও তিনি একই দৃশ্য দেখে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিমানবন্দর স্টেশনের পেছনে পরিদর্শনকালে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা হলো আমাদের বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশ, এটি রেলওয়ের জায়গা। পাশে সিভিল এভিয়েশনের জায়গা, সেটার অবস্থা আরও খারাপ। আমরা চেষ্টা করছি যেগুলো আমাদের জায়গা, সেগুলো পরিষ্কার করতে। কিন্তু যেটা রেলের জায়গা, যেটা সিভিল এভিয়েশনের জায়গা, তাদের উচিত তাদের জায়গা পরিষ্কার করা। আমরা সিভিল এভিয়েশনকে ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বলেছি। এখন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।’
মেয়র বলেন, ‘কারও বাসার ভেতরে আমাদের পরিষ্কার করার কথা না। সিভিল এভিয়েশনের ভেতরে আপনারা দেখলেন কোটি-কোটি মশার লার্ভা। এটার ভেতর আমাদের যাওয়ার কথা না। এটা উচিত উনাদেরই পরিষ্কার করা। রেলওয়ের পাশে দেখলেন অনেক ময়লা, অনেক লার্ভা। এটা আসলে রেলওয়ের পরিষ্কার করার কথা। আমরা এখন মামলায় যাচ্ছি, সোজা আঙুলে আর হচ্ছে না।’
