ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সাদেকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে নবীনগর উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক আল-আমিন খান জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি নবীনগরের লাউর ফতেহপুর আরএনটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
জানা গেছে, লাউর ফতেহপুর আরএনটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে নতুন করে আর কমিটি গঠন করতে পারেনি কর্র্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ কমিটির ব্যাপারে কথা বলার জন্য শিক্ষক আল-আমিন মঙ্গলবার দুপুরে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিকের কাছে যান। শিক্ষক আল-আমিনের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক তাকে পেটানো শুরু করেন।
আল-আমিন খান বলেন, ‘উনি (সাদেক) যেভাবে চাচ্ছিলেন, আমি সেভাবেই করতে চাচ্ছিলাম। উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার পরই তিনি আমাকে জনসম্মুখে মারধর শুরু করেন। আমি আর কিছু বলতে পারব না।’
লাউর ফতেহপুর আরএনটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন কমিটির সভাপতি পদে ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক তার নাম এককভাবে প্রস্তাব করতে প্রধান শিক্ষক আল-আমিনকে চাপ দেন। প্রধান শিক্ষক সাদেককে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে বললে তিনি তা দেননি। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক আল-আমিন ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে সাদেক তার ওপর হামলা করেন।
তবে ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সাদেক অভিযোগ অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ওনাকে আরও সেইভ করেছি। আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করছে, বুঝতে পারছি না। উনি (আল-আমিন) যাকে সভাপতি করতে চাচ্ছেন, তিনি (জাকির আহমেদ) ১২ বছর ধরে আছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
