বইয়ে ইতিহাস বিকৃতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে হাইকোর্টের রায়

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০৩:১৩ এএম

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের ঘটনায় বইটি  লেখা ও তা প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে করা রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে। আদালত বলে, ‘এই ইতিহাস বিকৃতি সকলের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ ঘটিয়েছে। রিট আবেদনকারীর আবেদন করার যথেষ্ট কারণ ছিল। ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে সকল বই সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তারা নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। এসব বিচেনায় আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হলো।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আইনজীবীরা জানান, ২০১৩ সালে আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকার সময় এ বইয়ের পা-ুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার উদ্যোগ এবং এ লক্ষ্যে উপদেষ্টা ও সম্পাদনার জন্য দুটি কমিটি করা হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইটি প্রকাশের পর ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ অনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বর্তমান গভর্নর ফজলে কবির। এরপর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বইয়ে বঙ্গবন্ধুর নাম না থাকা এবং আইয়ুব খানের নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশ হলে সমালোচনার মধ্যে একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বইটি বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হলে ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর রুল জারির পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে কমিটি। প্রতিবেদনে ইতিহাস বিকৃতির জন্য বইটির সম্পাদনা কমিটি এবং গবেষণা ও পান্ডুলিপি প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের অবহেলা ও গাফিলতিকে দায়ী করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান বইটির সম্পাদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১৯ জুন রায়ের তারিখ ধার্য করলেও রায়ের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি আদালতকে জানান, গ্রন্থটির ত্রুটি ধরা পড়ার পর গভর্নর এটি বিতরণ বন্ধের নির্দেশ এবং পুনর্বিবেচনার জন্য ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। কিন্তু রিটকারী আইনজীবী এসব তথ্য গোপন করে রিট আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী কাজী এরতেজা হাসানকে তলব করলে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রায় হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত