চুক্তির টিকা যথাসময়ে পাবে বাংলাদেশ: নরেন্দ্র মোদি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২১, ০২:০৪ এএম

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ যথাসময়ে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ‘কভিশিল্ড’ পাবে বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে আশ্বাস দিয়েছেন। 

শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। 

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে ভারত থেকে কেনা তিন কোটি টিকা পাবে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে ভূমিকা নেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খুব আন্তরিকতার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আগামী ৫০ বছর আমরা একসঙ্গে আরও এগিয়ে যেতে চাই। এক দেশ হঠাৎ উন্নতি হলে লাভ নেই, এই অঞ্চলের সবাইকে নিয়েই উন্নতি করতে হবে। আমরা চাই কানেক্টিভিটি বাড়ুক। করোনাকালে আমরা তাদের ভ্যাকসিন সহযোগিতা পেয়েছি। তারা ভ্যাকসিন দিয়েছেন। আমরা আশা করছি তিন কোটি ভ্যাকসিন যথাসময়ে আসবে।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারত নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয়েছে। আমাদের আশা—রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা ভালো ভূমিকা রাখবে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে পৌঁছান। 

উপহারের ১২ লাখ টিকা এসেছে

ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ১২ লাখ করোনার টিকা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উপহার হিসেবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই করোনার টিকা ‘কভিশিল্ড’ উপহার দিল ভারত। এর আগে ২১ জানুয়ারি উপহার হিসেবে আরো ২০ লাখ টিকা দিয়েছিল ভারত।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ফ্লাইট নং-এএল ১২৩০) বেলা পোনে দুইটার দিকে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ লাখ টিকা এসে পৌঁছেছে। পরে এসব টিকা বিমানবন্দর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তেজগাঁও সংরক্ষনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  
জানা গেছে, তিনটি ব্যাচের টিকা রয়েছে এখানে। এর মধ্যে এক ব্যাচের টিকার উৎপাদন তারিখ চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি, যার মেয়াদ শেষ হবে ১১ জুলাই। আরেক ব্যাচের উৎপাদন তারিখ চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি, যার মেয়াদ শেষ হবে ১৫ জুলাই এবং অন্য ব্যাচের উৎপাদন তারিখ চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৬ জুলাই।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ভারত। তাদের অভ্যন্তরীণ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সামনের সপ্তাহগুলোতে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই ভ্যাকসিনের ডোজগুলো ভারতেরই লাগবে। ভারতের এ সিদ্ধান্ত এপ্রিলের শেষ নাগাদ বহাল থাকতে পারে।

টিকা রপ্তানির স্থগিতের খবরে টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ি প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে তিন কোটি টিকা সরকারের কাছে পৌঁছে দেবে দেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা জানুয়ারির শেষে সময় মতো দেশে এসে পৌঁছায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় চালানের ৫০ লাখের মধ্যে মাত্র ২০ লাখ এসেছে। বাকি টিকা মার্চের প্রথম সপ্তাহে এবং মার্চের শেষের দিকে তৃতীয় চালানের ৫০ লাখ টিকা এসে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা এখনো আসেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত