আজমিরীগঞ্জে পুলিশের বাইকে আগুন, পিকআপ ভাঙচুর, ওসিসহ আহত ২০

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ১০:২৩ পিএম

পুলিশের ওপর হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জে হেফাজত ইসলামের ডাকা হরতাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগড় যাত্রী ছাউনির কাছে পুলিশ ও হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৭ পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

এ সময় হরতালকারী নেতা–কর্মীরা টহল পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টহল দেয়ার একপর্যায়ে পুলিশ আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় এলাকায় যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের তর্কবিতর্ক শুরু হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়।

তারা জানান, হরতালকারীরা এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি নূরুল ইসলামসহ ৭ পুলিশ সদস্য আহত হন।

হামলাকারীদের ঠেকাতে পুলিশও জনতার উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ব্যবহার করে। একসময় হামলাকারীরা পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে গেলে মসজিদের মাইকে পুলিশকে মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে যেতে গ্রামবাসীদের প্রতি আহ্বান জানায় হরতালকারীরা।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ খেলু নেতৃস্থানীয় লোকজন ও মুরুব্বিদের নিয়ে গ্রামবাসীদের পথরোধ করেন এবং তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি নূরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আহত ৭ পুলিশের মধ্যে এসআই পলওয়েল ও মুজিবুর রহমানকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

এদিকে সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের ধুলিয়াখালে রায়ধর, আলাপুর ও দীঘলবাগসহ বিভিন্ন গ্রামে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় হরতাল সমর্থকেরা। বেলা সাড়ে ১১টায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়। তবে হবিগঞ্জ শহরে দোকানপাট, অফিস আদালতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হালকা যানবাহন চলাচল করলেও বাস, ট্রাকসহ ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত