পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মেয়র হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি তার স্ত্রী রুবানা হক।
মঙ্গলবার ফোরামের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, বিজিএমইএকে পুঁজি করে সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত সাবেক সভাপতিরা মন্ত্রী-এমপি-মেয়র হচ্ছেন এমন অভিযোগ করে আসছেন ফোরাম নেতারা।
অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদের দাবি, মন্ত্রী-মেয়র হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ‘পথপ্রদর্শক’ বিজিএমইএর সাবেক আনিসুল হক। কোনো প্রকার রাজনীতি না করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরেও ফোরাম পরিষদ বিষোদ্গার কীভাবে করে এমন প্রশ্ন তাদের।
এ বিষয়ে রুবানা হক বলেন, নিজ যোগ্যতায় আনিসুল হক মেয়র হয়েছেন, বিজিএমইএকে ব্যবহার করে নয়। তাকে নিয়ে এমন মন্তব্যে তিনি মর্মাহত।
সম্মিলিত পরিষদ থেকে নির্বাচিত রেদওয়ান আহমেদ প্রথম বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
রুবানা হক বলেন, ‘আমার স্বামী আনিসুল হককে নিয়ে যে প্রশ্নটি তোলা হয়েছে এটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। কারণ তিনি আজকে আমাদের মাঝে নেই। তার প্রসঙ্গ টেনে তার আত্মাকে কষ্ট দেওয়া, আমাকে বা আমার পরিবারকে ছোট করা- এ রকম কেউ কোনো উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আনিসুল হক বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে মেয়র হন নাই। উনি বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, সার্ক চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তারপরে দীর্ঘদিন কিছু না করার পরেও তাকে টেনে আনা হয়েছে। কাজেই তিনি নিজের যোগ্যতায় নিজের সক্ষমতায় স্বার্থহীনভাবে কাজ করে গেছেন এবং দুই বছরে মারাও গেছেন কাজ করতে করতে।’
আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে রুবানা হককে মনোনীত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে যাদের স্থান দেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়টি সরকার স্পষ্ট করেছে। যারা যোগ্য এবং অভিজ্ঞতা আছে, কেবল তাদেরই স্থান দেওয়া হয়েছে। আমি তো মানবাধিকার কমিশনেও আছি।’
নিজে কখনো মন্ত্রী-এমপি হবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে বিজিএমইএকে ব্যবহার করে কখনো কিছু করবো না।’
ফোরামের লিখিত ইশতেহারে দেখা যায়, গত দুই বছরে তাদের অর্জন ৪৪টি। নতুন করে ৪৫টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৫৪টি।
প্যানেল নেতা এবিএম সামছুদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি নির্বাচিত হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ব্র্যান্ডিং, পোশাক খাতে গবেষণা ও মানোন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) নিয়ে কাজ করবেন। সর্বোপরি এই শিল্প বিকাশে তিনি নিজের সক্ষমতার সবটুকু দিতে চান।
লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন রুবানা হক। এ সময় ফোরামের প্যানেল লিডার এ বি এম সামছুদ্দিন, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম, সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান খান বাবু ও ফোরাম সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইব্রাহীমসহ প্যানেলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
