রমজানে হারামাইন খোলা থাকলেও বন্ধ থাকবে ইতিকাফ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২১, ১০:৪৩ পিএম

মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিকে হারামাইন শরিফাইন বলা হয়। আসন্ন রমজানে নামাজ আদায়কারী ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হারামাইন খোলা থাকলেও রমজানের বিশেষ আমল ইতিকাফ বন্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে মানতে হবে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। গত রবিবার পবিত্র দুই মসজিদবিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সির চেয়ারম্যান ও মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস সৌদি আরবের প্রধান দুই মসজিদে রমজানের পরিকল্পনা ঘোষণাকালে এসব কথা জানিয়েছেন।

মসজিদে হারামের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ বছরও রমজানে দুই পবিত্র মসজিদে ইতিকাফের সুযোগ থাকছে না। সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন রমজানের পরিকল্পনা প্রকাশের সময় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পবিত্র দুই মসজিদে আসা জিয়ারতকারীদের ভ্যাকসিন গ্রহণ, সারাক্ষণ মাস্ক পরিধান, স্যানিটাইজিং ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গত বছরের মতো এবারও করোনা পরিস্থিতিতে ১০ রাকাত তারাবি হবে। প্রথম ইমাম তিন সালামে ছয় রাকাত তারপর দ্বিতীয়জন দুই সালামে চার রাকাত তারাবি ও তিন রাকাত বিতর পড়াবেন। রমজানের শেষ দশ দিন কিয়ামুল লাইলের জামাত অনুষ্ঠিত হবে দশ রাকাত করে। এবারও কোনো অতিথি ইমাম নিয়োগ দেওয়া হবে না।

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুসারে, মসজিদে হারামে জিয়ারতকারীরা মসজিদের পূর্ব আঙিনাসহ নির্ধারিত স্থানে নামাজের সুযোগ পাবেন। অন্য স্থানগুলো হলো বাদশাহ আবদুল্লাহর করা মসজিদে হারামের সম্প্রসারিত অংশ, প্রথম তলা, ছাদ এবং মসজিদের হারামের বাইরের প্রাঙ্গণ।

মাতাফ (কাবা চত্বর) নামাজিদের জন্য বন্ধ থাকবে। এখানে শুধু তাওয়াফের সুযোগ পাবেন ওমরাহ পালনকারীরা। তবে তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হবে মসজিদে হারামের প্রথম তলায়। ওমরাহ পালনকারীরা কাবা স্পর্শ ও হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) চুম্বন করতে পারবেন না।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রকোপ শুরুর পর পবিত্র দুই মসজিদে কনটেইনারে করে জমজম পানি সরবরাহ ও বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আসন্ন রমজানেও এই নিয়ম বলবৎ থাকবে। তবে প্রতিদিন মসজিদে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা দুই লাখের বেশি পানির বোতল সরবরাহ করবেন।

মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে জিয়ারতকারীরা ইফতারের জন্য ব্যক্তিগতভাবে শুধু পানি ও খেজুর নিতে পারবেন। সঙ্গে আনা খাবার কোনোভাবেই ভাগ করে খাওয়া যাবে না। মসজিদে জিয়ারতকারীদের মধ্যে কোনো ইফতার বিতরণের অনুমতি থাকবে না।

শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস আরও জানান, রান্না করা কোনো খাবার মসজিদের সীমার মধ্যে আনা যাবে না। তবে জিয়ারতকারীদের মধ্যে জেনারেল প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে তৈরি ইফতার ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করা হবে। গ্র্যান্ড মসজিদে প্রবেশের অনুমতি ইতামারনা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে মসজিদে হারামের লাইব্রেরি এবং পবিত্র কোরআনের প্রদর্শনী, হারামাইনের সাইট প্রদর্শনী এবং বাদশাহ আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে কাবার গিলাফের প্রদর্শনী উন্মুক্ত করা হবে সকাল ৬টায়। এখানে দর্শনার্থীরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত