আলোচিত ‘কন্ট্রাক্ট’ ওয়েব সিরিজের অন্যতম নির্মাতা তানিম নূর কথা বললেন সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
কন্ট্রাক্ট...
ওয়েব সিরিজটি প্রকাশের পর থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাপ্রিশিয়েট করেছে। আবার ফেইসবুক ও অনলাইনেও অনেকে পজিটিভ ফিডব্যাক দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।
সমালোচনা...
একটা কাজ হলে সমালোচনা হবেই। সমালোচনাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। তবে যেসব সমালোচনা করা হয়েছে তার বেশির ভাগই চরিত্রগুলোর অপূর্ণতা বা পুরো গল্প না পাওয়া নিয়ে। এটা আসলে দুই পর্বের একটা সিরিজ। পুরো গল্প তুলে ধরা হয়েছে দুটি পর্বে। আমরা মূলত প্রথম সিজনের ছয় পর্ব প্রকাশ করেছি। অন্য সিজনেও এ রকম ডিউরেশনের ছয়টি পর্ব থাকবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা পুরো গল্পটা বলিনি। পুরো গল্প জানতে হলে দর্শকদের পরের সিজনটিও দেখতে হবে। দর্শকদের এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পরের সিজনে।
পরের সিজন...
সবে তো প্রথম সিজন মুক্তি পেল। পরের সিজনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। কিছুটা সময় তো লাগবেই। সে জন্য দর্শকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। সবকিছু ঠিক হলেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সিজনের ঘোষণা দেবে।
যৌথ পরিচালনা...
আমি আর কৃষ্ণেন্দু মিলে এই ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করেছি। ২০১৯ সালে ‘মানি হানি’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ করেছিলাম আমরা। এটি আমাদের যৌথভাবে নির্মিত দ্বিতীয় ওয়েব সিরিজ।
যৌথভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি। কারণ কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। বলতে পারেন প্রবলেম যেন ফেস না করতে হয় সে জন্যই তো যৌথভাবে কাজ করছি। প্রায় ১১ বছর ধরেই ওর সঙ্গে কাজ করছি। আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানও আছে। ফলে সেই পারস্পরিক বোঝাপড়াটা আছে।
পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা...
২০১১ সালে একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা বানিয়েছি ‘ফিরো এসো বেহুলা’ নামে। আবারও সিনেমা নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। চেষ্টা করছি যত দ্রুত সিনেমা নির্মাণ শুরু করা যায়। আর ফিল্ম করলে একাই করব। সিনেমায় যৌথ নির্মাণে আমি স্বাচ্ছন্দ্য নই।
নির্মাতা হওয়ার গল্প...
ঢাকাতেই আমার জন্ম। পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা সব ঢাকাতেই। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি টান ছিল আমার। স্কুলজীবন থেকেই ভাবতাম যে ফিল্ম মেকার হব। সে জন্য সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গেই ছিলাম। ফিল্ম সোসাইটিগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ফলে নিজের ভেতর আত্মবিশ^াস জাগল যে আমিও ফিল্ম বানাতে পারব। ২০০৫-০৬ সালের দিকে শর্টফিল্ম বানাই। ২০০৯ সালে এসে ‘ফিরো এসো বেহুলা’ সিনেমা বানানোর কাজ শুরু করি। সেটা ২০১১ সালে মুক্তি পায়। এরপর ২০১১ সালে আমি আর কৃষ্ণেন্দু মিলে একটা প্রোডাকশন হাউজ করি। সেখান থেকে কমার্শিয়াল নানা প্রোডাকশন মেক করি। এরপর থেকেই নানা ধরনের ফিকশন নির্মাণ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে ইতি তোমারই ঢাকা, মানি হানি, একাত্তর, কন্ট্রাক্ট উল্লেখ করার মতো।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম...
ওটিটি ভবিষ্যতের জন্য খুবই উজ্জ্বল প্ল্যাটফর্ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ মোবাইল ফোনেই বেশি কনটেন্ট দেখছে। যেকোনো কিছু যখন শুরু হয়, তখন শুরুর দিকে মানসহ নানা বিষয়ে কিছু অসংগতি থাকে। আস্তে আস্তে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। আমি মনে করি সবারই উচিত এই প্ল্যাটফর্মকে ইতিবাচকভাবে দেখা, এই প্ল্যাটফর্মের উন্নয়নে কাজ করা।
