এক সপ্তাহে মৃত্যুর রেকর্ড

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:০৬ এএম

দেশে কয়েক দিন ধরে করোনাভাইরাসের নতুন রোগী শনাক্তে একের পর এক রেকর্ডের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। দৈনিক মৃত্যুতে নতুন রেকর্ড না হলেও এক সপ্তাহে মোট মৃত্যুতে রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দেশে আরও ৫৮ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে শেষ এক সপ্তাহে (২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল) অর্থাৎ চলতি বছরের ১৩তম সপ্তাহে দেশে ৩৪৪ জন করোনা রোগী মারা গেছেন। এক সপ্তাহে মৃত্যুর এই সংখ্যা এযাবৎ সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে যখন দেশে করোনার সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ছিল, তখন গত বছরের ২৭তম সপ্তাহে (২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই) দেশে ৩১৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল এত দিন এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। ৩৮ সপ্তাহ বা প্রায় নয় মাস পর এসে গত সপ্তাহে মৃত্যুর সেই রেকর্ড ভাঙল।

গত বছরের ৩০ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। গত এক সপ্তাহে মৃত্যু ব্যাপকভাবে বাড়লেও এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সেই রেকর্ড এখনো অতিক্রম করেনি। তবে গত সপ্তাহের শেষ চার দিনই মৃত্যু ৫০ বা তার ওপরে ছিল। এর মধ্যে ১ এপ্রিল ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর সর্বোচ্চ এবং এযাবৎ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ ছাড়া গতকালের ৫৮ জনের মৃত্যুও দেশে এযাবৎ তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

অধিদপ্তরের গতকালের তথ্যমতে, শেষ এক সপ্তাহে দেশে করোনায় মৃত্যু বেড়েছে ৭১ শতাংশের বেশি। শেষ সপ্তাহে ৩৪৪ জনের বিপরীতে আগের সপ্তাহে মারা গেছে ২০১ জন। এ ছাড়া শেষ সপ্তাহে রোগী শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। শেষ সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৭১ জন, যেখানে আগের সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছিল ২৩ হাজার ১০০ জন। একই সঙ্গে শেষ সপ্তাহে সুস্থতা বেড়েছে ২০ ও পরীক্ষা ৪ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় রোগী শনাক্তও আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ৬৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের দিনও শনাক্তের হার প্রায় কাছাকাছি ছিল। তবে ওই দিন পরীক্ষা হয়েছিল ২৯ হাজারের বেশি, যা ছিল এক দিনে এযাবৎ সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৯২তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২২৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট, ৭৩টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২০টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৪ হাজার ১০০ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৮। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ৬৬১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯ হাজার ২১৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৬৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৫ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ এবং সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৮ ও নারী ২০ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৯২৫ পুরুষ ও ২ হাজার ২৮৮ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ১৭ ও নারী ২৪ দশমিক ৮৩ ভাগ। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৯ জন ঢাকা বিভাগের। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২, খুলনায় তিন, বরিশালে দুই, রংপুর ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছে। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৬৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬৬৪, খুলনায় ৫৯২, রাজশাহীতে ৫০৮, রংপুরে ৩৭৭, সিলেটে ৩২৭, বরিশালে ২৭৬ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ২০২ রোগী মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৩৪, ৫১-৬০ বছরের ১৬, ৪১-৫০ বছরের চার ও ৩১-৪০ বছরের ছিল চারজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৮০ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ২৭৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৭৩৮ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৫৪৯ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ৯ হাজার ৭২২টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৪ হাজার ৪৪৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৯৬টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩৯২টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত