হেফাজতের বিরুদ্ধে পোস্ট: ঢাবি ছাত্রলীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করল আ’লীগের লোকেরা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৫৭ পিএম

গত ২৬ মার্চ দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের হরতালের দিন হয়ে যাওয়া ভাঙচুরের ছবি ফেইসবুকে শেয়ার করায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় আফজাল খান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পুলিশের সামনে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়শ্রী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আফজাল খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং স্যার এফ রহমান হলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায় যায়, গত ২৯ মার্চ জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আফজাল খান দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের হরতালের দিন হামলা ও আক্রমণের কিছু ছবি তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেন। তবে পরে তিনি পোস্টটি ‘অনলি মি’ করে রাখেন যাতে কেউ আর দেখতে না পারে। যদিও পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবক এর স্ক্রিনশট রেখে দেন।

পুলিশ জানায়, পোস্টের ব্যাখ্যা চাইতে স্থানীয় যুবকরা মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়শ্রী বাজারে আফজাল খানের কাছে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হরিপুর সাতঘরিয়া গ্রামের আবুল হাসেম আলমের ছেলে আল মোজাহিদসহ ২০/৩০ জন। আফজল খান পোস্টটি তার নয় বলে দাবি করেন। এ সময় মোজাহিদ ও আফজালদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে মোজাহিদ ও তার লোকজন আফজালকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের নিয়ন্ত্রণ করতে আফজাল হোসেনকে হাতকড়া পড়িয়ে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। সবার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে পরে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খান জানান,‘ফেইসবুকে আমি এ ধরনের কোন পোস্ট দিইনি। মোজাহিদ শিবিরকর্মী ছিল, তার বিরোধ থেকেই আমাকে এমনটা করেছে। আর পুলিশ আমাকে বাধ্য করেছে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে। আমি এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব’।

ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানার এসআই জহিরুল ইসলাম ও এএসআই আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর আটক যুবককে রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ওই নেতাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ।

তিনি বলেন, ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা আফজাল খানকে হেনস্তার ঘটনায় জয়শ্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম আলম ও তার ছেলে আল মুজাহিদ দায়ী। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আবুল হাশেম আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটিতে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত