পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের বাইরে সহিংসতা, নিহত ৪

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ০২:১৮ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জেলার ৪৪টি কেন্দ্রে গতকাল শনিবার বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোট শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজ্যের কুচবিহার জেলায় বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলির ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

অভিযোগ উঠেছে, উভয় দলের কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এতে চার যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ওই চারজনই তাদের সমর্থক। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী বলছে, হঠাৎ ৩০০ থেকে ৪০০ জনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সে সময় দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা থামাতে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালাতে বাধ্য হয় তারা।

স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘দলে দলে মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিনা প্ররোচনায় গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।’ বুথের ভেতরে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন বলছে, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ওই চারজনের নাম হামিদুল হক, হামিনুল হক, মনিরুল হক ও নূর আলম। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘আমি বরাবর বলে আসছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার শত্রু নয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যে চক্রান্ত চলছে, তা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের গুলি করে মেরে দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানিকে দায়ী করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যটিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘কুচবিহারে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক...স্বজন হারানো পরিবারের প্রতি সমবেদনা। বিজেপির ওপর মানুষের সমর্থন দেখে ঘাবড়ে গিয়ে মমতা দিদি ও তার গুণ্ডাবাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে। দিদি ও তার গুণ্ডাবাহিনী ঘাবড়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে আক্রমণ করছেন। নির্বাচন কমিশনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করছি।’

উত্তরবঙ্গের কুচবিহার জেলার নয়টি ও আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি বিধানসভা আসনের সবগুলোতেই ভোটগ্রহণ চলছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি, হাওড়া জেলার ১৬টির মধ্যে ৯টি এবং হুগলির ১৮টির মধ্যে ১০টি আসনে ভোট হচ্ছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৪৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ৩৯টি। বিজেপির হাতে ছিল মাত্র ১টি এবং বামদের দখলে ৩টি আসন। আর তাদের জোট শরিক কংগ্রেসের ঝুলিতে ১টি আসন ছিল। অবশ্য ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলের হিসাব অনেক বদলে গেছে। এই ৪৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২৫টি ও বিজেপি ১৯টি কেন্দ্রে এগিয়ে। তবে সে সময় পৃথকভাবে লড়াই করা বাম-কংগ্রেসের হাতে কোনো আসনই নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত