রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা!

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩২ পিএম

শনিবার বিকেল ৪টা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পেছনে পুকুর খননের কাজ চলছে। দশ-বারোটি ট্রাক সারিবদ্ধভাবে খননের সেই মাটি ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। দরপত্রের শর্ত ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হলেও অসহায় প্রশাসন।

জানা গেছে, রাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারাদারকে একাধিকবার নিষেধ করার পরও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গত কয়েকদিন থেকে তারা একই কাজ করছেন। ইজারাদারদের কাছে নিরুপায় হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন ইজারাদারকে মাটি নিয়ে যাওয়া থেকে কেন আটকাতে পারছে না কিংবা ইজারাদার কীসের প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা মানছে না সেই বিষয় নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে কেউ ইচ্ছা করলেই যা খুশি নিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ প্রশাসনকেই করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার পরও যখন মাটি নেয়া আটকানো যাচ্ছে না তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর তৈরির জন্য টেন্ডার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বুধপাড়া এলাকার মাসুদ রানা দরপত্রে সর্বোচ্চ দর দিয়ে চার বছরের জন্য পুকুরটির ইজারা পান। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বছর প্রতি তিন লাখ টাকা করে পাবে। কিছুদিন আগে সেখানে পুকুর খননের কাজ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প এই বিষয়গুলোর দেখভাল করে।

কৃষি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী খননের পর পুকুরের পাড় বাঁধাই করে অতিরিক্ত মাটি পাশেই রাখতে হবে। এই মাটি ব্যবহারের বিষয়ে কৃষি প্রকল্প সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে পুকুর খননের মাটি ট্রাক্টরে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নেওয়ার বিষয়ে সত্যতা পেয়েছে কৃষি প্রকল্প। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ক্যাম্পাসের বাইরে না নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অথচ সেই নির্দেশনা অমান্য করে গত কয়েকদিন থেকে ক্যাম্পাসের এসব মাটি বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে শামসুজ্জোহা হলের পেছনে অন্তত ১২টি ট্রাক্টর দেখা গেছে। ট্রাক্টরগুলো পুকুর খননের মাটি ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু বকর নামের একজনের সঙ্গে কথা হয়।

মাটি নেয়ার অনুমতি আছে কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অনুমতি আছে। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় মতিহার থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েছে।’

তবে অনুমতির কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেন নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার এখতিয়ারের বাহিরে। এখানে আমার বলার বা করার কিছুই নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘কৃষি প্রকল্পের পক্ষ থেকে পুকুর খননকৃত মাটি অন্যত্র না নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি আমরা। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আমন্য করে তারা এসব কাজ করছে।’

শর্ত ভেঙে মাটি বাইরে নেওয়ার ব্যাপারে ইজারাদার মাসুদ রানার ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত