হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের আদালতে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে আহমদ শফীর মৃত্যুর জন্য হেফাজতের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ মোট ৪৩ জনকে দায়ী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পিবিআইয়ের জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিটটির প্রধান উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় যে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল সেখানে আমরা ৩১ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। এর বাইরে তদন্তে নাম আসছে আরও ১২ জনের।’
হেফাজতের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীকে আসামি করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে পিবিআই প্রধান বলেন, ‘যে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল, সেখানে উনার (জুনাইদ বাবুনগরী) নাম ছিল না। কিন্তু তদন্তে যে আরও ১২ জন আসছে, সেই ১২ জনের মধ্যে উনার (জুনাইদ বাবুনগরী) নাম আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুন না, খুনের প্রচেষ্টাও না। এটি ‘দোষাবহ নরহত্যা’।’
২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আহমদ শফী। মৃত্যুর আগের দিন মাদ্রাসায় বিক্ষোভ ও হট্টগোলের মধ্যে মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। বহিষ্কার করা হয় শফীপুত্র মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আনাস মাদানিকে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে আহমদ শফীকে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। শফীর মৃত্যুর পর তার পরিবার এবং হেফাজতে ইসলামের মধ্যে তার অনুসারীরা শফীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ জন্য তারা বাবুনগরী ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন।
এরপর ১৭ ডিসেম্বর আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়।
হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির শফীর মৃত্যুর দিন ছেলে আনাস মাদানি ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগের দিনের ‘অনাকাক্সিক্ষত’ ঘটনার কারণে ‘টেনশনে হার্টফেল’ করে তার বাবা মারা গেছেন। হেফাজতের মধ্যে বিবাদের মধ্যে শফীর শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন আদালতে মামলা করেন।
