বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সফররত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডারগণ।
মঙ্গলবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের (মিনুসকা) ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিদিকি ড্যানিয়েল ত্রাওর ও ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদানের (আনমিস) ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাইলেশ সাদাশিভ তিনাইকার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ফোর্স কমান্ডারগণ সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময় ছাড়াও চলমান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জসমূহ এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের বিশেষভাবে সম্পৃক্তকরণ, মিশন এলাকায় এয়ার সহায়তা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষা অপারেশনের কার্যপ্রণালীর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ। এছাড়াও আফ্রিকা মহাদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সেখানকার জীব বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে সেনাবাহিনী প্রধান মত পোষণ করেন।
উল্লেখ্য, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে গত ৪ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বহুজাতিক অনুশীলন ‘শান্তির অগ্রসেনা’ পরিচালিত হয়। এই অনুশীলনের সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়‘আর্মি চিফস্’ কনক্লেভ’ এ যোগদানের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মিনুসকা এবং আনমিস এর ফোর্স কমান্ডারগণ বাংলাদেশে আগমন করেন। সফর শেষে তারা আজ ঢাকা ত্যাগ করেন।
ফোর্স কমান্ডারগণের সাক্ষাতের পূর্বে বাংলাদেশে সফররত ভুটান সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব অপারেশনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দরজি রিনচেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময় এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় জেনারেল আজিজ আহমেদ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি ভুটান সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থন বজায় থাকবে বলে পূর্ণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
