এক দিনেই আড়াই লাখ রোগী ভারতে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪২ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসের ‘সুনামি’ শুরু হয়েছে ভারতে। দেশটি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যখন করোনার প্রথম ঢেউয়ের চূড়ায় উঠেছিল তখন দৈনিক শনাক্ত সর্বোচ্চ ৯৭ হাজারে উঠেছিল। এরপর তা কমতে কমতে ১০ হাজারে নামে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি থেকে ফের বাড়তে শুরু করে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। বাড়তে থাকে মৃত্যুও। এপ্রিল মাসের শুরুতে লাখ পেরিয়ে যায় দৈনিক শনাক্ত। তার ১১ দিনের মাথায় দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত ছাড়ায় ২ লাখ। আর এর চারদিন পরেই আড়াই লাখ ছাড়িয়ে দৈনিক শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজারে। একই দিন মৃত্যু হয়েছে দেড় হাজার মানুষের। এর আগে কেবল এক দিনই ভারতে করোনায় দৈনিক মৃত্যু ২ হাজার ছাড়ায়।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে, করোনাভাইরাস মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৪ কোটি ১৩ লাখ ৫৩৮। এর মধ্যে ৩০ লাখ ২৩ হাজার ৮১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১১ কোটি ৯৯ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৭ জন।

করোনা শনাক্তের সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের পরই দেশটির অবস্থান। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৮ হাজার ১০৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭৭ হাজার ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রায় সবগুলো রাজ্যেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজ্যে শনাক্তের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। সংক্রমণের নিরিখে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রের। পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। ভোটের মৌসুমে হু হু করে এ রাজ্যে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারী শেষ হয়ে গেছে মনে করে নেওয়া ভুল পদক্ষেপের মাশুল দিচ্ছে ভারত। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ইমিউন সিস্টেম গবেষক ড. ভিনেতা বাল বলেন, দীর্ঘমেয়াদি মহামারীর বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দেয়নি। সেপ্টেম্বরে যখন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করল অনেকেই সিদ্ধান্ত নিলেন মহামারী শেষ হয়ে গেছে। মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সবাই ভুলে গেলেন। সরকারও ঝুঁকির বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যখন আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল তখন কর্র্তৃপক্ষও দোটানায় পড়ে যায়। সরকারের দ্বিধামূলক অবস্থানের ফলে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যর্থতা এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বড় বড় জনসমাবেশ করেছেন, যেগুলোতে লাখো কর্মী-সমর্থক মাস্ক ছাড়াই উপস্থিত হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মোদি সরকার কুম্ভমেলা উপলক্ষে লোকজনকে সমবেত হওয়ার অনুমতি দেয়। এই মেলাকে কেন্দ্র করে গঙ্গা নদীতে কয়েক লাখ পুণ্যার্থী অংশ নেন। এই আয়োজন করোনার সুপারস্প্রেডারে পরিণত হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে রাজ্যটির বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী তিরাথ সিং রাওয়াতের দাবি, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসের ফলে ভাইরাসের ভয় দূর হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত