ডিজিটাল তথ্যভান্ডার সুরক্ষায় সাইবার যোদ্ধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশে কমপক্ষে ৫০ হাজার নতুন সাইবার যোদ্ধা তৈরি করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে আরও সাইবার ড্রিল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ প্রজšে§র মধ্য থেকে এই যোদ্ধা তৈরি করা হবে। সে লক্ষ্যে চলতি বছরে আরও নতুন আঙ্গিকে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে সাইবার ড্রিল প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সরকারিভাবে আলাদা একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি (ডিএসএ) বিজিডি ই-গভ: সার্ট এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সব খাতে তথ্যপ্রযুক্তির সমাবেশ ঘটানো হচ্ছে। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেরও প্রয়োজনীয় সব তথ্য অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে অনলাইন। বর্তমানে প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এ কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যেমন দক্ষ কর্মী দরকার, তেমনি দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে এ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। সে লক্ষ্য থেকেই এ খাত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও ডিএসএর পরিচালক তারেক বরকতুল্লাহ বলেন, সাইবার ড্রিলের মাধ্যমে আগামী বছর নাগাদ অর্ধ লাখ সাইবার যোদ্ধা বেরিয়ে আসবে। তারা ডিজিটাল বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সূত্র জানায়, দেশে তথ্যপ্রযুক্তির খাত বিকশিত হচ্ছে। প্রতিটি বেসরকারি অফিসে এখন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ খোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি খাতের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ফলে এ খাতের তথ্য জনবলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সে তুলনায় জনবল নেই। এ কারণে এ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজন করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণের। সরকারি খাতের পাশাপাশি এখন বেসরকারি খাতেও এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলছে। এর মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সার্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ডিজিটাল তথ্যভান্ডার বা সাইবার সুরক্ষায় তরুণরা রয়েছে শীর্ষ অবস্থানে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দেশে জাতীয়ভাবে এই প্রথম অনুষ্ঠিত সাইবার ড্রিল প্রতিযোগিতায় তরুণরা সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান রয়েছে তাদেরই দখলে। অন্যান্য স্থানেও রয়েছে তাদের জয় জয়কার।
প্রতিযোগিতায় আর্থিক খাতের ৫৫টি দলে ২৩৭ জন, বিশ^বিদ্যালয়ের ৭৭টি দলে ৩৪২ জন, স্বতন্ত্রভাবে ৬৮টি দলে ২৮৭ জন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি দলে ৬ জন, বেসরকারি কোম্পানির ১৯টি দলে ৮০ জন, সরকারি সংস্থার ১৩টি দলে ৫৪ জন সাইবার যোদ্ধা অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ফাইল দেওয়া হয় কম্পিউটার সার্ভারে। এর মধ্যে কিছু নিজেদের ও কিছু অন্যদের। নিজেদের ফাইলগুলো সুরক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করে অন্যদের ফাইলগুলোকে আক্রমণ করার কৌশল দেওয়া হয়। যারা নিজেদের সুরক্ষা করে অন্যদের আক্রমণ করে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা লন্ডভন্ড করে দিতে পেরেছে, তারাই প্রতিযোগিতায় ভালো করেছে।
এর আগে গত বছরের শেষ দিকে শুধু আর্থিক খাতের জন্য একটি সাইবার ড্রিল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
