ফেনীতে যুবলীগকর্মী সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩১ পিএম

লকডাউন চলাকালে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডে এক যুবলীগকর্মী রিকশাযাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় পুলিশের এসআই যশোমন্ত মজুমদারকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা দুই কনস্টেবলকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

সোমবার রাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মাইনুল ইসলাম জানান, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়ানো যুবক মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার সাথে পুলিশ সদস্যরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারতেন। পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী স্বাক্ষরিত ওই আদেশে এসআই যশোমন্ত মজুমদারকে ফেনী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তিন মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রিকশাযাত্রী হঠাৎ করেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন লকডাউনে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে।

ফেনী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রিকশায় বসে থাকা এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন ফেনী মডেল থানার দায়িত্বরত উপ পরিদর্শক (এসআই) যশোমন্ত মজুমদারসহ পুলিশ সদস্যরা।

তারা রিকশার গতিরোধ করে চলমান লকডাউনে মাস্ক পরা ও বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে চলাচল করতে বাধা প্রদান করছিলেন। এ সময় ওই যাত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং তাকে রিকশা থেকে নামতে বলেন পুলিশ সদস্যরা।

কেন তার গতিরোধ করা হল বলে ওই যুবক চিৎকার করে বলতে থাকে- ‘অন্য রিকশা ছেড়ে দিছস। আমার রিকশা কেন ধরা হয়েছে।’ একপর্যায়ে তাকে রিকশা থেকে জোরপূর্বক নামানোর পর ওই যুবক গালমন্দ করতে থাকেন। পুলিশ তাকে ‘পাগল’ আখ্যা দিলে কেন পাগল বলা হয় তার কারণ জানতে চান যুবক। তার হাতে হাতকড়া লাগানোর চেষ্টা করলে চার পুলিশ সদস্যের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। একাধারে তিনি পুলিশদের গালাগালি করতে থাকেন।

ওই ব্যক্তি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যরা তাকে আঘাত করেন। এ সময় ওই ব্যক্তিও পুলিশদের পাল্টা আঘাত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় একপর্যায়ে একাধিক পুলিশ সদস্য তাকে ঝাপটে ধরে এবং হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করেন।

পরে একপর্যায়ে ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য তাকে হাতকড়া পরানোর জন্য জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় উপস্থিত জনতার তোপের মুখে তারা আবার ওই ব্যক্তিকে ধরে উঠান এবং হাতকড়া পরান। এ সময় ওই ব্যক্তি এটা আওয়ামী লীগের দেশ বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

মোটবী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন রিয়াদ বলেন, পুলিশের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হওয়া ওই যুবকের নাম শহিদ। তিনি ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বাসিন্দা। আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন শহীদ। বর্তমানে ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মী। তার মানসিক সমস্যা আছে বলে আমার জানা নেই।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, ফেনী শহরের ট্রাংক রোডস্থ মডেল স্কুলের সামনে থেকে অটক যুবক শহীদের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে হাজতখানায় রাখার পর শোরচিৎকার করে সবাইকে অস্থির করে তোলে। একপর্যায়ে তার স্বজনদের ডেকে আনলে তারা মানসিক সমস্যার কথা জানান। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত