কাঠি শুঁকে ফিরবে করোনায় হারানো স্বাদ-গন্ধ!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৮ পিএম

কারেন ও হাইনার রেসে পেঁয়াজসহ রুটির মধ্যে মাছভাজা খেতে ভালোবাসেন। তবে খাবারের স্বাদ যতই ভালো হোক না কেন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তাদের জিভে আর কোনো স্বাদ নেই। আসলে করোনায় আক্রান্ত হলে গন্ধের অনুভূতি প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। সে কারণে স্বাদও পাওয়া যায় না। এই কারণেই তারা খাবারের কোনো স্বাদ পান না। তবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত তাদের এই স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। 

কিল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ড. মার্টিন লাউডিন বলেন, ‘কমবেশি দশ শতাংশ ক্ষেত্রে গন্ধের অনুভূতিতে বিঘœ থেকে যায় বলে মনে হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে সেই অনুভূতি পুরোপুরি লোপ পায় না বটে, কিন্তু কভিড রোগের পর গন্ধের অনুভূতি বদলে যায়।’

এই অবস্থায় গন্ধের অনুভূতি বোধের উন্নতি করতে সহজ এক ট্রেনিং রয়েছে। একাধিক গবেষণায় তার সুফলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার আওতায় রোগীদের নিয়মিত চারটি কড়া গন্ধওলা কাঠি শুঁকতে হয়। ড. মার্টিন লাউডিন বলেন, ‘সেই কাঠি নিজের নাকের নিচে ধরে সেই গন্ধ অনুভব করার চেষ্টা করতে হয়। সকাল-সন্ধ্যায়, অর্থাৎ দিনে দুই বার দশ থেকে পনেরো সেকেন্ড ধরে গন্ধ শুঁকতে হয়।’

কাঠিগুলোতে গোলাপ, ইউক্যালিপটাস, লেবু ও লবঙ্গের গন্ধ রয়েছে। ইচ্ছে করলে যে কেউ পছন্দমতো অন্য গন্ধও বেছে নিতে পারে। যেমন সুগন্ধি তেল বা কড়া মসলা। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গন্ধের কোনো গুরুত্ব নেই। গন্ধ পেলেও কখনো তা চেনা যায় না। তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। এ ক্ষেত্রে গন্ধ চেনা মূল লক্ষ্য নয়, বরং আদৌ গন্ধ পাওয়াই হলো সাফল্য।  ড. লাউডিন বলেন, ‘এখানে কোনো পদার্থের গন্ধ না চিনলেও আপনার অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। অপেক্ষা করা উচিত। সেটা করতে গিয়ে মস্তিষ্কে গন্ধ পৌঁছানোর পথ এবং খোদ মস্তিষ্কের অনুশীলন হয়, নতুন আন্তঃসংযোগ সৃষ্টি হয়। দৈনন্দিন জীবনে আবার গন্ধের অনুভূতি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে অবশ্যই কিছু উন্নতি হয়েছে। কারেন ও হাইনো রেসে আশা করছেন যে এই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তারা আবার স্বাদ ও গন্ধের বোধ ফিরে পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত