হেফাজতের তাণ্ডবে বিএনপি ও পাকিস্তানি গোয়েন্দারা অর্থ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘হেফাজতের গ্রেপ্তার হওয়া নেতারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন গত মার্চে তাণ্ডব করার জন্য কোথায় কখন কার বাসায় বৈঠক হয়েছে, কারা অর্থায়ন করেছে।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবন থেকে অনলাইনে তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় দুই হাজার স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের ইকোনমিক টাইমস ও বাংলাদেশের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে, ২৬ থেকে ২৮ মার্চ সারা দেশে হেফাজতের ব্যানারে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেখানে বিএনপি-জামায়াত সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে, অর্থ জোগান দিয়েছে এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা সাহায্য করেছে। ওই সময় সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়ে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পত্তি, যানবাহন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষের জমির দলিলপত্র পোড়ানো, ফায়ার-রেল-পুলিশ স্টেশনে হামলা হয়েছে। ঐতিহ্য-পুরাকীর্তি ধ্বংস করা এমনকি ভিন্নধর্মের উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে। এগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার পতনের উদ্দেশ্যে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল।
এর আগে রাঙ্গুনিয়ায় দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী করোনাকালে দিনমজুর, মাঝি, রিকশা-ভ্যানচালকসহ খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে তার এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাদের কৃষকদের ধানকাটায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
ড. হাছান মাহমুদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘এনএনকে ফাউন্ডেশন’ থেকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা, হোছনাবাদ, মরিয়মনগর, চন্দ্রঘোনা ও পৌরসভা এলাকার দুই হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার এ আয়োজনে রাঙ্গুনিয়া প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক খালেদ মাহমুদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার প্রমুখ।
