দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু আবারও কমছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৭৮ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত ১৪ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল এরচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া দুই সপ্তাহ পর দৈনিক মৃত্যু গতকাল আশির নিচে নেমেছে। এর আগে গত ১৪-২২ এপ্রিল টানা ৯ দিন মৃত্যু নব্বইয়ের ওপরে ছিল। এর মাঝে ১৬-১৯ এপ্রিল চার দিন টানা মৃত্যু একশর ওপরে ছিল। ২৩ ও ২৪ এপ্রিল মৃত্যু আশির ঘরে নামলেও পরের দিন ২৫ এপ্রিল তা আবার এক লাফে ১০০ ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আবার মৃত্যু কমতির দিকে রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন নারী। এর মধ্য দিয়ে গতকাল দেশে করোনায় সর্বমোট নারী মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। শতকরা হিসেবে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ শতাংশ নারী।
এদিকে মৃত্যুর পাশাপাশি রোগী শনাক্ত এবং হারও কমছে। গতকাল ২৪ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ৩১ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে কম। এছাড়া এদিন শনাক্ত হার ছিল ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত ৩৬ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে সর্বশেষ গত ২২ মার্চ এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত মার্চে প্রথম থেকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি শুরু হলে চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে শনাক্ত হার ২৩ শতাংশ ছাড়ায়, যা চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত হার। গত ১৭ এপ্রিল থেকে শনাক্ত হার কমতে শুরু করে। কমতে কমতে গতকাল নাগাদ সেই হার ১২ শতাংশ নেমেছে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪১৫তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে ৩৫৮টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৪টি জিন-এক্সপার্ট, নতুন ৭টিসহ ১৯৪টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং নতুন একটিসহ ১২৩টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৪ হাজার ৫০৯ জনের। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ২৪ হাজার ২৩৭ জনের, যার মধ্যে ২ হাজার ২৬৩টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৯ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১১ হাজার ২২৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ২৩৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৭ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪৫ ও নারী ৩৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ২২৬ পুরুষ ও ৩ হাজার ২ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৩ দশমিক ২৬ ও নারী ২৬ দশমিক ৭৪ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ৫০ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহী ও খুলনায় ৬ জন করে, সিলেটে ৩, ময়মনসিংহে ২ এবং বরিশালে ১ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৫৩, ৫১-৬০ বছরের ১৫, ৪১-৫০ বছরের ৭ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ৩ জন। এদিন ৪৯ জন সরকারি হাসপাতালে, ২৭ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০৩ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ১ হাজার ৯৯৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৯ হাজার ৫৩২ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ হাজার ৩৫৯ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১২ হাজার ২৬০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ৪ হাজার ৫০৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ৬৯টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিলেন ৬৭০টিতে।
