হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে

আপডেট : ০৪ মে ২০২১, ০৬:০২ এএম

দিনাজপুরের হিলিতে আমদানিকৃত ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। আমদানির আইপি শেষ হওয়ায় ও নতুন করে আইপি না পাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় পণ্যটির দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া অনেক আমদানিকারক তাদের নিজস্ব গুদামে পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। লকডাউন ও রমজানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

গতকাল সোমবার হিলি বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় পেঁয়াজ কয়েকদিন আগে ২২ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ থেকে ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দেশীয় পেঁয়াজ আগে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রমজান হোসেন ও আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘৪/৫ দিন আগে যে পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে কিনলাম, কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ এখন দাম বেড়ে ২৮ টাকা হয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে কাজ কমে যাওয়ায় আয় ইনকাম নেই বললেই চলে। তার ওপর রমজান মাস চলছে। এর মধ্যেও এভাবে যদি দাম বাড়ে, তাহলে আমরা নিম্ন আয়ের মানুষজন কী করব। এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর এত দাম দিয়ে কীভাবে পেঁয়াজ কিনব না অন্য খরচ করব। আর দেশীয় পেঁয়াজের গায়ে তো হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩৫/৩৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এখন দাম বাড়ার কারণে বাধ্য হয়ে আগে যেখানে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতাম, এখন সেখানে হাফ কেজি কিনছি। দাম কমলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষজনের জন্য ভালো হতো। সবাই অন্তত পেঁয়াজ কিনতে পারত।’

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমায় দাম বাড়তে শুরু করেছে। একইভাবে বাজারে আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় দেশীয় পেঁয়াজের ওপর চাপ বাড়ায় দেশীয় পেঁয়াজের দামও বাড়তে শুরু করেছে। মোকামেই পেঁয়াজের দাম বেশি। আমরা কী করব? যার কারণে আমরা বাড়তি দামে কিনে আনছি। সে মোতাবেক বাড়তি দামে বিক্রিও করছি।’ তবে অনেক আমদানিকারক তাদের নিজস্ব গুদামে আগের আমদানিকৃত পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত