করোনার কাছে হার মেনেছে এবারের আইপিএল। ২৯ ম্যাচ খেলা হওয়ার পর ক্রিকেটারদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত করা হয়েছে ক্রিকেটের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর। প্রশ্ন হচ্ছে, আইপিএলের বাকি অংশ আদৌ হবে? অক্টোবর-নভেম্বরে দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাকি ৩১ ম্যাচ আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে ভারতীয় বোর্ড। শঙ্কা রয়েছে করোনার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও। যদিও বিসিসিআইয়ের একাংশের দাবি, করোনা আতঙ্কের জন্য আইপিএল বাতিল হয়ে যাওয়া মানেই বিশ্বকাপ আয়োজন করা যাবে না এমনটা নয়। বোর্ডপ্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি বলছেন, ‘বিশ্বকাপের এখনো ৬ মাস বাকি। তবে যে রকম পরিস্থিতি, তাতে কী হবে তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। সিচুয়েশন যদি ভালো হয়, তাহলে নিশ্চয়ই এখানে হবে।’ অন্যদিকে বোর্ডের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দেশের (করোনা) পরিস্থিতি জুলাই মাসে অনেকটা ভালো হতে পারে। তাই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।’
ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি রুপি
আইপিএলকে বলা হয় ভারতীয় ক্রিকেটের সোনার ডিমপারা হাঁস। সেটাই করোনা মহামারীর কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তাতে ভারতীয় রুপিতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার কোটি থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। বোর্ডের এই বিপুল ক্ষতির মূল কারণ সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে চুক্তি অনুসারে সম্পূর্ণ টাকা না পাওয়া। সম্প্রচার সংস্থার কাছ থেকেই ১৬৯০ কোটি রুপি ক্ষতি হবে বোর্ডের। এছাড়া টাইটেল স্পন্সরের কাছ থেকে বছরে ৪৪০ কোটি রুপি পাওয়ার কথা। যদিও আইপিএল বন্ধ হওয়ায় এখন পাবে অর্ধেক টাকা। চুক্তি অনুসারে সম্প্রচারকারী সংস্থার কাছ থেকে বছরে ৩২৬৯.৪ কোটি রুপি পাওয়ার কথা সৌরভদের।
বিসিসিআইর বিরুদ্ধে ১০০০ কোটির মামলা
করোনা মহামারীতে বিপুল প্রাণহানি সত্ত্বেও আইপিএল চালিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ১০০০ কোটি রুপির জনস্বার্থ মামলা করেছেন আইনজীবী বন্দনা শাহ। গতকাল মুম্বাই হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় বিসিসিআই কর্তাদের ‘অহংকারী মানসিকতার’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই কর্মকর্তারা ভীষণ অহংকারী। দেশে করোনার গ্রাসে একাধিক পরিবার শেষ হয়ে গেলেও বোর্ড কর্তারা সেই দিকে নজর দেননি। বরং চোখ-কান বন্ধ করে আইপিএল চালিয়ে গেছেন। এটা মানবিকতার পরিপন্থী। দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি বোর্ড কর্তাদের ন্যূনতম দায়িত্ব থাকলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত। ১০০০ কোটি টাকা কভিড আক্রান্ত মানুষদের অক্সিজেন এবং ওষুধের জন্য ব্যয় করে তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন বুকিরা
দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২ মে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচে মাঠে ঢুকে পড়েন দুই বুকি। করোনা সংক্রমণের জেরে দর্শক প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কীভাবে বুকিরা স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারল তা নিয়ে সমালোচনার মুখে আইপিএল কর্র্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ভুয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নিয়ে এ দুই বুকি স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে ঢুকে পড়ে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুকিদের একজন দিল্লির স্বরূরনগরের বাসিন্দা। নাম কৃশান গর্গ। দ্বিতীয়জন পাঞ্জাবের জলন্ধরের মনিশ কাঁসল।
দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে বাটলার-মঈনরা
আইপিএল স্থগিত হওয়ায় নিজ দেশে ফিরেছেন ৮ ইংল্যান্ড ক্রিকেটার। গতকাল সকালে লন্ডনে পৌঁছেই যুক্তরাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিনের হোটেল রুম কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন তারা। ভারতকে ইংল্যান্ড সরকার লাল তালিকাভুক্ত করেছে। এই দেশ থেকে যাওয়া সব নাগরিককেই বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়াতেই আছেন জনি বেয়ারস্টো, জন বাটলার, স্যাম বিলিংস, ক্রিস ওকস, মঈন আলি, জেসন রয়, টম ও স্যাম কারেনরা। তাদের সঙ্গে ধারাভাষ্য দিতে আসা সাবেক ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনকেও মানতে হচ্ছে একই নিয়ম। ৮ জন ফিরলেও ভারতে রয়ে গেছেন ইউয়েন মরগ্যান, ডেভিড মালান ও ক্রিস জর্ডান।
