২৪ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অনেক রাত জেগে কাটিয়েছেন শচিন টেন্ডুলকার। কেমন খেলবেন তাই নিয়ে ম্যাচের আগে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় টিম হোটেলের ঘরে একা পায়চারি করতেন।
একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এই ব্যাটিং কিংবদন্তি, ‘আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পেতে মানসিক জোর থাকা খুবই জরুরি। তাই প্রতি ম্যাচে মাঠে যাওয়ার অনেক আগে আমার লড়াই শুরু হয়ে যেত। আর সেই জন্য নিজের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হতো। কিন্তু আমি কোনোদিন এই চাপ থেকে বেরোতে পারিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ১০-১২ বছর মানসিক চাপ আরও বেশি ছিল। দল কেমন খেলবে, আমি কতটা অবদান রাখতে পারব সেটা ভেবে অগণিত রাত জেগে কাটিয়েছিলাম। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় টিম হোটেলের ঘরে একা পায়চারি করেছি। কিন্তু এতে লাভ হয়নি। বরং চাপ বেড়েছে। তবে পরের দিকে এতটা চাপ নিতে চাইনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে বোধশক্তিও বেড়েছিল।’ ২০০৭ সালে ভারত সফরে এসেছিল পাকিস্তান। সেবার আসামের গৌহাটিতে প্রথম ওয়ানডে খেলার সময় শোয়েব আখতারের বলে পাঁজরে চোট পেয়েছিলেন শচিন। সেই ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের প্রথম ওভারে শোয়েবের একটা বল আমার পাঁজরে লাগে। সেজন্য প্রায় দুই মাস যন্ত্রণায় ঘুমোতে পারতাম না। তবে খেলা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেই ‘রিব গার্ড’ তৈরি করেছিলাম। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে অস্ট্রেলিয়া সফরে চলে যাই। সেখানে গিয়ে টেস্ট ও একদিনের সিরিজ খেলতে থাকি। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিকে কুঁচকির চোট বড় হয়ে দাঁড়ায়। তাই দেশে ফিরে সারা শরীর স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নিই। সেই সময়ই আমার ডাক্তার আমাকে পাঁজর ভাঙার বিষয়ে জানান।’ এ জন্য ২০০৮-এর আইপিএল-এর সাতটা ম্যাচ খেলতে পারিনি বলে জানান শচিন।
