২০১৮ সালে এমিলি আব্রাহাম জানতে পারেন অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তার স্বামীর। চার বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন সেখানেই। বাড়ি বিক্রি করে পোষা কুকুর লোকিকে নিয়ে বের হয়ে পড়েন বিশ্বভ্রমণে। দুই বছরে এমিলি ইউরোপের প্রায় ২০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
পৃথিবীর পথে পথে
ভালোবেসে বিয়ে, এরপর সংসার। দুজনে মিলে ভালোই কাটছে সময়। এরই মাঝে যদি কেউ জানতে পারেন সঙ্গী ধোঁকা দিচ্ছে, অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছে, তখন সেই খবরে নিশ্চয়ই তিনি আনন্দিত হবেন না। ৩৪ বছর বয়সী এমিলি আব্রাহামও মেনে নিতে পারেননি। তিনি যখন প্রথম জানতে পারেন তার স্বামী তাকে ধোঁকা দিচ্ছে, প্রথমে তিনি বিশ্বাস করেননি। কিন্তু দিনে দিনে সন্দেহ বাড়তে থাকায় একবার স্বামীর ফোন হাতে নিয়ে কিছু মেসেজ দেখতে পেলেন। সেখানে অন্য একজন নারীর সঙ্গে আন্তরিক আলাপ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত নেন চার বছরের সংসার জীবনের সেখানেই ইতি টানবেন। স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান এমিলি। তবে ভেঙে পড়েননি। নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চেয়েছেন। জীবনে এত বড় আঘাত পাওয়ার পর আবারও বিয়ের বন্ধনে বাঁধা না পড়ে বের হয়ে গিয়েছেন বিশ্বভ্রমণে। একমাত্র সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন প্রিয় পোষা কুকুর লোকি ও পথে পাওয়া কোলিকে।
আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এমিলি তার বাড়ি বিক্রি করে দেন। একটি ক্যাম্পেল ভ্যান ঠিক করেন। এরপর লোকিকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি ফ্লাইটে চলে যান জার্মানিতে। এক বছর কাটিয়ে দেন ইউরোপেই। জার্মানি থেকেই চলে তাদের অবিরাম পৃথিবী ঘুরে দেখা। ইতিমধ্যেই সাতটি দেশে লোকিকে নিয়ে ট্রেনিং করেছেন, ১১টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নিজের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। লোকিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দেখেছেন সুইডেনের নর্দার্ন লাইটস, স্লোভেনিয়ার পাহাড়ে হাইকিং করেছেন, দেখেছেন অস্ট্রিয়ার ওয়াটারফলও। অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী হয়েও সেখানে থাকেননি এমিলি ‘আমি কখনো অস্ট্রেলিয়াকে আমার নিজের ঘর ভাবতে পারিনি। মানে একদম অন্তর থেকে ঘর মনে করার যে অনুভূতি তা আমার কখনো হয়নি। সবসময় এমন জায়গায় যেতে চেয়েছি যেখানে গেলে আমার থাকতে ইচ্ছে হবে। আমি দুবার ইউরোপ গিয়েছিলাম। সেখানকার বন, নদী, লেক, পাহাড়, সংস্কৃতি, ইতিহাস আমার ভীষণ ভালো লাগে। যখন আমি জানতে পারলাম আমার প্রাক্তন স্বামী আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, তখন সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করলাম, ঠিক এই মুহূর্তে জীবনে আমি কী করতে চাই? মন থেকে উত্তর পেয়েছিলাম, লোকিকে নিয়ে ইউরোপ চলে যাও।’
মানুষ তাকে যতটা সাহসী ভাবে এমিলি নিজেকে ততটা ভাবেন না ‘অনেকেই আমাকে বলেছেন আমি অনেক সাহসী। অথচ আমি নিজেই কখনো এভাবে ভাবিনি। বরং আমি সবসময়ই খুব ভালো পরিকল্পনা করতে পারি। সে তুলনায় কাজ করতে পারি না। আমার শুধু একটি ছোট ধাক্কার প্রয়োজন ছিল। নিজেকেই বিশ্বাস করানো দরকার ছিল যে, আমার জীবনে যত পাগলামি করার স্বপ্ন আছে সবই চাইলে পূরণ করা সম্ভব। যখন থেকে আমি পরিকল্পনা শুরু করলাম, তখন থেকে সব ঘটনা যেন একা একাই ঘটতে শুরু করল। প্রতিবার আমি শুধু একটি করে তালিকা করতাম আর নিজেকে বলতাম, এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত আমি যখন ইচ্ছা তালিকা পূরণ করার জন্য রাস্তায় পা রাখলাম তখনো ভাবছিলাম এসব সম্ভব কি না। শুধু জানতাম পেছনে কোনো মায়ার টানে আটকে থাকা যাবে না। হোক অথবা না হোক, আমি শুধু চুপচাপ বিমানে উঠে গেলাম।’
ট্রেনিং ও প্রতিযোগিতা
আজকে যখন এমিলির ভ্রমণের গল্প অনেকের জন্যই উৎসাহজনক, শুরুতে এ ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে এমিলিকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। থাকার জায়গা, ট্রেনিং করে আয়ের পথ খোঁজা তার জন্য কষ্টের ছিল ‘আপনি যখন নিজের বাড়িতে রয়েছেন, কোনো ক্লাবে কাজ করছেন অথবা ট্রেনিং দিচ্ছেন কোথাও, সেখানে সপ্তাহে আপনাকে কয়েকবার যেতে হচ্ছে, তখন আপনি জানেন আপনি কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, পরবর্তীকালে আপনাকে কী করতে হবে। কিন্তু আমি যখন রাস্তায়, তখন আমি জানি না আগামী দিন কোথায় যাব। কারণ আমি কিছুই চিনি না। রাস্তা চেনার জন্য আগে একটা বই কিনলাম। বই দেখে দেখে প্রথমবার আমি একটা হল খুঁজে পেয়েছিলাম। সেই অনুভূতি বলে বোঝানো কঠিন। নতুন কিছু আবিষ্কারের মতো আনন্দ হচ্ছিল।’
নিজের যত যোগাযোগ ছিল সবকিছু কাজে লাগিয়ে এমিলি লোকির জন্য ট্রেনিংয়ের জায়গা ও কোচ খুঁজেছেন। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সেøাভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও সুইডেনে তিনি লোকিকে নিয়ে ট্রেনিং করেছেন। নরওয়ে, সেøাভাকিয়া, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
ইউরোপের প্রথম ছয় মাসে এমিলি ও লোকিকে নমনীয়তার জন্য বেশকিছু ভঙ্গি শিখতে হয়েছিল ‘ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়ার নমনীয়তার ধরন আলাদা। দুই জায়গার কোর্স দুই রকম। শেখার পদ্ধতিও আলাদা।’ লোকির সঙ্গে থেকে এমিলি সবচেয়ে ভালোভাবে শিখেছেন লোকি দৌড়ালে কীভাবে তাকে সামলাতে হবে। কুকুরের বিশ্বস্ততা অর্জন করে তার সঙ্গে বিভিন্ন কলাকৌশল করা যায়। এমন আরও নানা পদ্ধতি তাদের দুজনকেই শিখতে হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়াতে প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগ ছিল। একদল সবসময় জিততে চায়। এজন্য তারা আরও ভালো, দ্রুত, চ্যালেঞ্জিং কোর্স চাইত। আবার একদল ছিল শখের প্রতিযোগী। তারা শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চায়। নির্দিষ্ট কোনো স্থান তাদের দরকার নেই। তারা একদম সহজ কোর্স চায়। এমিলি নির্দিষ্ট করে কাউকেই ভালো বলেন না। তবে হ্যাঁ, তিনি চাইতেন তার লোকি যেন ভালো খেলেই জিততে পারে। ইউরোপে এসে দ্রুত ও অল্প সময়ে ট্রেনিং করে জেতার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন এমিলি।
বর্তমান পেশা
এমিলি এখন বাস করছেন ইংল্যান্ডের পেনিনসে। কাজ করছেন ডারহামের পোষা প্রাণীদের ফটোগ্রাফার হিসেবে। দুই বছরে এমিলি ও লোকি মিলে নরওয়ে থেকে ইতালি পর্যন্ত গিয়েছেন। এমিলি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা ছিলেন। বাড়ি বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে ভ্যানটি কিনে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছিলেন। লোকি ও এমিলি মিলে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে চার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জার্মানির কার্লশ্রুহেতে আসেন। সেখানে গিয়েই যে সরাসরি কোনো বাড়িতে উঠেছিলেন তা নয়। তার থাকার জায়গা ছিল না। তাই পথকেই বেছে নিয়েছিলেন থাকার জন্য ‘সময় কাটাতে আর ঘুমানোর জন্য আমি প্রাকৃতিক জায়গাই বেছে নিয়েছিলাম। আর এজন্য শুরুতে থাকতাম পার্কে। ঘুম থেকে উঠেই হয়তো চলে যেতাম কোনো বনের ভেতর অথবা বড় কোনো লেকের পাশে।’
যাত্রাপথে কোলি নামের আরও একটি কুকুরকে খুঁজে পান এমিলি। লোকির সঙ্গে তাকেও সঙ্গী করে নেন ভ্রমণের। এরপর থেকে তিনজন মিলেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পৃথিবীর পথ ‘নর্থ সুইডেন থেকে ক্রোয়েশিয়া পর্যন্ত যেতে আমি লোকির প্রায় হাজারখানেকেরও বেশি ছবি তুলেছি। কোলি যখন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলো তখন থেকে আনন্দ বেড়ে গেল দ্বিগুণ। আমরা তিনজন মিলে এখন ঘুরে বেড়াই, নতুন নতুন জায়গায় যাই, আনন্দ করি।’
আপাতত ডারহামেই আস্তানা গেড়েছেন এমিলি। মন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন ‘আমার মনে হয়, আমি এখন কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। যদিও ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াতেই আমার বেশি ভালো লাগে। এখন কিছুদিন এখানেই সময় কাটানো যাক। লোকি আর কোলিরও কিছু নতুন বন্ধু হোক।’
সাবেক স্বামী
এমিলির সাবেক স্বামী বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের মধ্যে ভালো সময় কাটছিল না। দুজনের মতের মিল হচ্ছিল না, এমনকি কয়েকবার আমাদের কাউন্সেলিংও করতে হয়েছে। যদিও আমি স্বীকার করি ভুলটা আমারই ছিল। অস্বীকার করছি না অন্য নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, তাকে মেসেজ দিয়েছি, কথা বলেছি। শুরুতে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। আর সেখান থেকেই আমাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে আমি এমিলিকে ভুল বলছি না। আমাদের সম্পর্ক শেষ করাটা আসলে জরুরি ছিল। এমিলির সঙ্গে লোকির যে ভালোবাসা সেটি সত্যিই সুন্দর। এমিলি বর্তমানে যেভাবে চলছে সেটা সত্যিই তার জন্য ভালো ও আনন্দের।’
নতুন অভিজ্ঞতা
ভ্রমণের জন্য অন্য কারও ওপর নির্ভরশীল হননি এমিলি। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে শিখেছেন সবকিছুÑ ‘আমার জীবনে আর কোনো কমফোর্ট জোন নেই। কীভাবে বরফে গাড়ি চালাতে হয়, কীভাবে লোকিকে নিয়ে বর্ডার পার হওয়া যায় সেসব তথ্য নিয়ে ডকুমেন্টারি দেখা, কীভাবে গাড়ির ব্যাটারি বদলাতে হয়, কীভাবে পাহাড়ের সরু রাস্তা দিয়ে কিছুটা পাগলামি করে গাড়ি চালাতে হয়, ছয় ভাষায় সম্বোধনের ভাষা কেমন হবে, লোকিকে এক জায়গায় বসিয়ে ১৯টি কৌশল শেখানো, মানিব্যাগে দুই ডলার আর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই ডলার থাকলে কীভাবে চলতে হয়, কীভাবে সাহায্য চাইতে হয় এ সবকিছু আমাকে শিখতে হয়েছে পথ চলতে গিয়ে।’
সাধারণভাবে সময় কাটানোই এমিলির কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয়Ñ ‘এ ভ্রমণে ভালো লাগার অনেক মুহূর্ত ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সুইডেনের বনে চুপচাপ বসে থাকা, ভ্যানের দরজা খুলে বিছানা বাইরে বের করে তাতে শুয়ে থাকা, মাত্র ১০ মিটার দূরত্বেই বাল্টিক সমুদ্র, মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়া। লোকি এসব বিষয়ে খুব স্বচ্ছন্দ। পাখির ডাক, সমুদ্রের কোলে শুয়ে থাকা, শুকনো পাতার মড়মড় আওয়াজ সবকিছুতেই কেমন ভালো লাগা মেশানো। আমি এ সময়গুলোতে বই লিখেছি, অথবা দীর্ঘ সময় ঘুমিয়েছি। প্রতিটি মুহূর্তকে আমি উপভোগ করেছি। স্মৃতিতে প্রতিটি মুহূর্ত ধরে রাখতে চেয়েছি।’
এমিলির পরামর্শ
জীবনের কঠিন এ সময়ে এমিলি নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বহুবার ভেবেছেন। সুখ, সুযোগ কখনো সময় আর ইচ্ছা মেনে আসে না বলে বিশ্বাস করেন এমিলি ‘কোনো জিনিস, খুশি, আনন্দ, সুযোগের জন্য কখনই আপনি অপেক্ষা করতে পারবেন না। বাইরে বের হতে ভয় লাগে এটা সত্যি। তবে একবার যদি সেটি করা যায়, তখন সবচেয়ে ভালো বিষয়টিই হয়। জীবনে ভালো সময় আসবে এটা ভাবার জন্য জীবন অনেক ছোট। আপনার নিজের খুশি আপনাকেই তৈরি করে নিতে হবে। আমার মনে হয় ঘরের বাইরের বহু জিনিসের মধ্যে সুখ-আনন্দ লুকিয়ে আছে। সেগুলো খুঁজে নিতে হবে। নতুন কিছু কেনা, অর্থ সঞ্চয়, বড় বাড়ির মালিক হওয়া এগুলো সাময়িক সুখমাত্র। এগুলো চলে গেলে আমরা আবার অসুখী হয়ে যাব। কিন্তু একবার বাইরের পরিবেশে সুখ খুঁজে পেলে অর্থের মধ্যে সুখ খুঁজতে হয় না।’
‘যদি পেছনে ফিরে তাকাই, তবে প্রতারণার ঘটনাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। সেই ঘটনা না ঘটলে আজকে আমি বিশ্বভ্রমণ করতে পারতাম না। লোকিকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, হুটহাট ইচ্ছেমতো যেকোনো জায়গায় যেতে পারতাম না। আমি যদি সবকিছু মেনে নিয়ে থেকেও যেতাম তবু আমাকে কষ্টেই দিন কাটাতে হতো। একবার কষ্ট পাওয়ার পর আর দ্বিতীয়বার ভাবিনি। জীবনে যা করতে পারিনি তাই করতে চেয়েছি। লোকিকে নিয়ে বের হওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গী হিসেবে সে শ্রেষ্ঠ’ বলছিলেন এমিলি।
জীবন থেকে এখনো ছুটি নিয়ে যারা ঘুরতে পারছেন না তাদের জন্য এমিলির পরামর্শ হচ্ছে ‘কম ব্যস্ত থাকার সুযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এমন মুহূর্ত খুঁজে নিন যখন নিজেকে সময় দিতে পারবেন। সবসময় সেই সময় যে নিজের মনমতো আসবে তা নয়। সময় তৈরি করে নিতে হয়। আমাদের সবার এমন সময়ের প্রয়োজন। মনের শান্তির জন্য এমন মুহূর্তের ভীষণ দরকার।’
