জনসাধারণ এবং লঞ্চ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হতে পারে লঞ্চ চলাচল। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান বিধিনিষেধ আর বাড়ছে কি না, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন কোনো নির্দেশনা না থাকলে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে কঠোরভাবে।
এদিকে ২৪ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতো লঞ্চ চলাচলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় সদরঘাটে সংগঠনটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদল। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন আর নদীর পরিবহন এক না। এখানে খোলামেলা পরিবেশ। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা যাত্রী পরিবহন করতে পারি। এর আগেও আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ পরিচালনা করেছি। অথচ গার্মেন্টস, দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে স্বাস্থ্যবিধির কারণে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সেই স্বাস্থ্যবিধি লক্ষ করা যাচ্ছে না। তবে কেন লঞ্চ বন্ধ রাখা হয়েছে? অবিলম্বে লঞ্চ চলাচল শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নৌযান বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে লঞ্চেরও ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের ইঞ্জিন চালু করে রাখতে হয়। অনেক লঞ্চের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। সরকারকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব করে আমাদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা পথে বসে যাব। তাই আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে যেন লঞ্চ চালু করে দেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারি নির্দেশনায় চলমান বিধিনিষেধের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সব দিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুতই লঞ্চ চলাচল শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে আগামীকাল (রবিবার) সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাদের কাছ থেকে তালিকা চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে নৌ শ্রমিকদের সহায়তা দেওয়ার। তালিকা অনুযায়ী আমরা তাদের সহায়তা করব।
