বৈশ্বিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ২ জুন। ওই দিন বিকেল ৫টায় শুরু হবে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। এটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৩তম এবং বর্তমান মেয়াদের অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় বাজেট অধিবেশন। এ অধিবেশন উপলক্ষে গতকাল রবিবার সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক হয়েছে। সংসদের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনার কারণে এবারের বাজেট অধিবেশনও সংক্ষিপ্ত হবে। ১২ কার্যদিবসের অধিবেশনে সংসদে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ অধিবেশন সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রী-এমপি ছাড়াও কর্মকর্তা -কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সংস্পর্শে যেতে লাগবে করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট। সর্বনিম্ন সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ নিয়ে অধিবেশনের কাজ পরিচালনা করা হবে। সংসদ চলাকালীন দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে পাশের দেশ ভারতের করোনা পরিস্থিতি ও ভারতীয় ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে তিন দিন পরপর মন্ত্রী-এমপিদের করোনা টেস্ট করাতে হবে। তাদের এই টেস্টের ফল দেখিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে হবে। অপেক্ষাকৃত তরুণ এমপিদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হবে।
আগামী ৩ জুন আসছে অর্থবছরের বাজেট পেশ হবে। এটি হবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের তৃতীয় বাজেট উপস্থাপন। ওই দিন দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অর্থ বিলে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ কারণে রাষ্ট্রপতি সেদিন তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে অবস্থান করবেন। এরপর ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। আর অধিবেশন চলবে ১২ কার্যদিবস।
এছাড়া বৈঠকে সংসদ ভবন, সদস্য ভবনগুলো এবং সংসদ এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখা, সংসদ এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবারের অধিবেশন নিয়ে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংসদের ক্লিনিক ও মিডিয়া সেন্টারে বরাবরের মতোই করোনা পরীক্ষা করা যাবে।
এবার প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হবে। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের মতো আসছে বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ বিভাগে ২৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি। তবে টিকাসহ সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আসছে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটে রয়েছে ২২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগকে দেওয়া হবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটে রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা।
