পটুয়াখালীর দুমকিতে কবস্থানের মাটি কেটে পাউবো’র বেড়িবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অমতে ঠিকাদারের লোকজন রাতের আঁধারে এস্কাভেটর দিয়ে একটি কবরস্থানের অন্তত ৪-৫ ফুট গভীরতায় মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঘটনায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাউবো’র মুরাদিয়া-কলাগাছিয়া পোল্ডারের উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের ইউসুব মোল্লার বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানের অন্তত ১০-১২টি কবরসহ ৪-৫ ফুট গভীরতায় মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার। ওই বাড়িসহ এলাকাবাসীর আপত্তি অগ্রাহ্য করে চরম খামখেয়ালিপনার আশ্রয়ে গভীর রাতে এস্কাভেটর মেশিন দিয়ে বাগানের গাছপালা ও কবরস্থানের মাটি কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বেড়িবাঁধ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মন্নান মোল্লার ছেলে রবিউল মোল্লা অভিযোগ করে জানান, ঠিকাদারের দায়িত্বরত লোকেরা আমাদের আপত্তি আমলে না নিয়ে রাতের আঁধারে পারিবারিক কবরস্থানের মাটি কেটে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বেড়িবাঁধ আমরাও চাই। তবে মানবিক বিবেচনায় কবরস্থান রক্ষা করে পাশর্^বর্তী স্থানের মাটি নিলে কারও আপত্তি ছিল না।
ওই ইউনিয়নের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। ঠিকাদারের জোর জবরদস্তি করে বেড়িবাঁধের কাজ করার সুযোগ নেই। স্থানীয় লোকজনের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখেই কাজ করতে হবে।
এ ব্যাপারে পাউবোর কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার স্বপন মৃধার কাছ থেকে কিনে নেওয়া সাব-কন্ট্রাক্টর আবদুল্লাহ-আল মামুন বলেন, কবরস্থানের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পাউবো’র অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সাইটের দায়িত্বরত লোকজন এস্কাভেটর দিয়ে কাজ করছে।
কবরস্থানের মাটি কাটা উচিত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সুরাহা করা হবে। পাউবো’র দায়িত্বরত তদারক কর্মকর্তা (এসও) নিরব হোসেন বলেন, কবরস্থানের মাটি কাটার বিষয়টি জানি না। জব্বার মোল্লা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার দেখানো মতে মাটি কাটা হয়েছে। কবরস্থানের মাটি কেটে থাকলে অবশ্যই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, কবরস্থানের মাটি কেটে থাকলে তা ঠিক কাজ করা হয়নি। বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে (এসও) সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
