এত সীমাবদ্ধতা নিয়ে মনের মতো কাজ করা সম্ভব নয়: মেহজাবিন

আপডেট : ২৬ মে ২০২১, ১২:১২ এএম

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন  চৌধুরী কথা বললেন সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

কাজের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

বেশ কিছু কাজ রিসেন্টলি প্রশংসিত হয়েছে। ফ্যানদের প্রশংসা পেলে তো ডেফিনিটলি ভালো লাগে। কাজগুলো তো করাই হয় তাদের জন্য। সেই জায়গা থেকে যখন একটা কাজ নিয়ে আলোচনা হয় বা কাজটা মানুষ দেখে তখন ভালোলাগাটা বেড়ে যায়।

বেশি ভিউ ইতিবাচক না নেতিবাচক?

বেশি ভিউ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলবেই। এসব নিয়ে আলাদাভাবে ভাবার কিছু নেই। আমি মনে করি কাজ করলে কিছু কাজ ভালো হবে আবার কিছু কাজ খারাপ হবে। মানুষের ক্যারিয়ারে সব ধরনের কাজ হবে। কিছু কাজ ভালো হলে সেগুলো মানুষের মনে থেকে যায়। নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা নিয়েই আমরা কাজ করি। অনেক হাই বাজেটের কাজও হচ্ছে। এসব সম্ভব হচ্ছে দর্শক দেখছে বলে। আগে একটা মাধ্যম ছিল এখন টেকনোলজির কারণে দর্শক বেশি মাধ্যমে নাটক দেখতে পাচ্ছে। ফলে ভিউ বেশি হচ্ছে। দেখারও সুযোগ পাচ্ছে। আগে টিভিতে একবার নাটক প্রচারিত হয়ে গেলে এরপর আর দেখা যেত না। কিন্তু এখন টিভিতে অনএয়ার হওয়ার পরও দর্শকেরা ইউটিউবে, ওটিটিতে নিজের সময়মতো দেখতে পাচ্ছে। এতে করে অডিয়েন্স বাড়ছে। যত অডিয়েন্স বাড়ছে তত ভিউও বাড়ছে। দর্শকদের অসম্মান করে কখনোই কিছু বলব না। যত দর্শক দেখবে ততই আমরা খুশি হবো। অনেক ভালো কাজ করলাম, কিন্তু দর্শক যদি না দেখে তো সেটার মূল্য নেই।

image

আর মান নিয়ে কথা বলতে গেলে কম বাজেটের কাজের মান তেমন ভালো হবে না। বেশি বাজেটের কাজের মান বেশি ভালো হবে। মানের বিষয়টা নির্ভর করে প্রযোজক পরিচালক কলাকুশলীসহ সবার উপরে। শুধু আর্টিস্টরা দায়ী নয়। বাইরের নাটক সিনেমা দেখে হয়তো আমাদের রুচি বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বাজেটসহ নানা কিছুর কারণে সেই রুচির প্রোডাকশন হয়তো করা সম্ভব হয় না। তবে নাটকের মান আরও ভালো কি করে করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। অনেকেই মনে করে নাটক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বলব নাটক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এটা না বলে নাটককে কীভাবে আরও ভালো করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা।

image

ব্যক্তিগত রুচিবোধ থেকে কাজ করে আপনি তৃপ্ত কিনা?

ব্যক্তিগত রুচিবোধ থেকে আমি কাজ করে তৃপ্ত কিনা এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলব, ভালোর কোনো শেষ নেই। স্বল্প বাজেট, নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েও আমরা যতটুকু করতে পারছি সেটা নিয়ে বলব যে আলহামদুল্লিাহ। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত রুচির জায়গা থেকে যদি বলেন তাহলে বলব ‘না’।

এর কারণ কি?

কারণ আমাদের সবার কাছে যে ক্লেভারটা আছে তাতে করে যা করতে পারছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট না। আরও ভালো কিছু করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানকার সব পরিস্থিতি মেনে নিয়ে বিবেচনা করে যদি বলেন, তাহলে বলব, আমি আমার শতভাগটা দেওয়ার চেষ্টা করি। তিন দিনের কাজ দুই দিনে শেষ করি। এই ধরনের কাজগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এখন ‘অল্প সময়ের মধ্যে কাজটা কীভাবে শেষ করব’ এই  চিন্তা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু এই ধরনের চিন্তা যখন মাথা থেকে চলে যাবে তখন আরও ভালো মানের কাজ করতে পারব। কারণ এতসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে মনের মতো ভালো কাজ করা সম্ভব নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত