আইসিসি র্যাংকিংয়ে টেস্ট ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডার উইন্ডিজের জেসন হোল্ডার। অনেক দিন মাঠের বাইরে থাকার পরও ওয়ানডের অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টিতে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ অলরাউন্ডার আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী।
পেস বোলিংয়ের সঙ্গে সমানতালে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস টেস্ট ও ওয়ানডে অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ে আছেন দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি’র অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ের সেরা দশেও নেই তিনি। তবে র্যাংকিং-ট্যাংকিং নয়, খেলা দেখে এবং দলের জয়ে প্রভাব বিশ্লেষণ করে স্টোকসকেই এগিয়ে রাখছেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার রিচার্ড হ্যাডলি।
সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তি দেখিয়েছেন হ্যাডলি, ‘এই সময়ের অলরাউন্ডারদের যখন দেখি, বেন স্টোকসই এক নম্বর হিসেবে আমার চোখের সামনে ফুটে ওঠে। সে লড়াকু, দারুণ ব্যাটসম্যান, কার্যকর বোলার এবং এমন একজন, যে কি না একাই ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জিতিয়েছে। রবীন্দ্র জাদেজা, সাকিব আল হাসান, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মঈন আলি, ক্রিস ওকস, জেসন হোল্ডার, সবাই নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই যোগ্য।’ জ্যাক ক্যালিস অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে নিয়ে গেছেন সর্বকালের সেরাদের উচ্চতায়। তার প্রসঙ্গ টেনে হ্যাডলি বলেছেন, ‘জ্যাক ক্যালিস অসাধারণ অলরাউন্ডার ছিল। দুর্দান্ত মানের এবং প্রচণ্ড অনুপ্রাণিত একজন। ব্যাটসম্যান হিসেবে সে দারুণ ছিল, যেটা তার মূল শক্তির জায়গা মানে তার বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল। পরিসংখ্যানের দিক থেকে ক্যালিস ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার। আসলে সর্বকালের সেরা কে, এটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক হতে পারে। শেষ পর্যন্ত, শিরোপাটা হয়তো স্যার গ্যারি সোবার্সেরই থাকবে। যুগে যুগে কিথ মিলার, টনি গ্রেগ, অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ ও শন পোলকের মতো অলরাউন্ডাররাও দাপট দেখিয়েছে।’
ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিরাট কোহলির আগ্রাসী মনোভাবের প্রশংসা করে ৮৬ টেস্টে ৩১২৪ রান ও ৪৩১ উইকেট শিকারি হ্যাডলি বলেছেন, ‘উচ্চস্তরের যে কোনো খেলারই প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা লাভ করে ম্যাচ জিতে নেওয়া। মাঠে কোনো খেলোয়াড় বা দলের আগ্রাসন ও প্রতিপক্ষকে অবমাননা করার মধ্যে বরাবরই একটা সরু সুতোর ব্যবধান থাকে। তবে কোনো খেলোয়াড় যদি নিজের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা বরাবরই প্রতিপক্ষের মধ্যে একটা ভয়ের সঞ্চার করে এবং তাদের মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। আমার মতে বিরাট একজন খুব আবেগপ্রবণ ও প্রতিযোগিতায় আগ্রহী ক্রিকেটার যে নিজে এবং নিজের দলকে সব সময় সাফল্য এনে দিতে বদ্ধপরিকর।’ বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা বোলার জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে হ্যাডলি বলেন, ‘যদি বুমরাহ আহত হন তবে এটি মারাত্মক হতে পারে, কারণ সে তার শরীরে প্রচুর চাপ ফেলে। আমি আশা করি চোটের কারণে তার কেরিয়ার শেষ হবে না। তার বোলিং দেখে ভালো লাগছে। অতুলনীয় গতি, বাউন্স এবং বাতাস ও পিচ দিয়ে বল সরিয়ে নিয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য তিনি প্রচুর ঝামেলা সৃষ্টি করেন। এই ধরনের কৌশল দিয়ে একজন ফাস্ট বোলারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া খুব কঠিন হবে এবং আমি মনে করি কোনো কোচ তা করা থেকে বিরত থাকবেন কারণ এটি আঘাতের সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে আমি মনে করি কিছু তরুণ তার অনুকরণ করার চেষ্টা করতে পারে।’
