দক্ষিণখানে ৬ টুকরো লাশ

প্রেমিকাসহ ৫ দিনের রিমান্ডে ইমাম আবদুর রহমান

আপডেট : ২৭ মে ২০২১, ০১:৫৭ এএম

রাজধানীর দক্ষিণখানে পোশাকশ্রমিক আজহার (৩০) হত্যা মামলায় স্থানীয় সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. আবদুর রহমান (৫৪) ও তার প্রেমিকা (নিহতের স্ত্রী) আসমা আক্তারকে (২২) পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, নিহতের ভাই মো. হাসান বাদী হয়ে আজ (গতকাল বুধবার) আবদুর রহমান ও আসমাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনুজ কুমার সরকার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

গত মঙ্গলবার রাতে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারের ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার  করে র‌্যাব। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে র‌্যাব প্রথমে মসজিদের ইমাম আবদুর রহমানকে আটক করে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে পরে নিহতের স্ত্রী আসমা আক্তারকে আব্দুল্লাহপুর থেকে আটক করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আজহারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী। তিনি নিপা গার্মেন্টস নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। গত ১৯ মে রাতে আজহারকে মসজিদে নিজের থাকার কক্ষে ডেকে নেন ইমাম আবদুর রহমান। পরে সেখানে ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন তিনি।

পরকীয়ার জেরে হত্যা : এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে  র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রমজান মাসের সাত দিন আগে আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী আসমা ও ইমাম আবদুর রহমান। সে সময় কলেরায় আক্রান্ত হয়ে আজহার হাসপাতালে গেলে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পেরেছে, আবদুর রহমান ও আসমার মধ্যে পরকীয়া চলছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাসায় গিয়ে আজহার ও তার চার বছরের ছেলেকে আরবি পড়ানোর একপর্যায়ে আসমার সঙ্গে আবদুর রহমানের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মার্চে বিষয়টি টের পেয়ে আজহার ইমামকে বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এরপর মার্চের শেষদিকে দুজন মিলে আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

প্রথমে ভাড়াটে বা অন্য কারও মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা থাকলেও পরে আসমার পরামর্শে এটি মসজিদে ইমামের কক্ষে করা হয়। এজন্য গত ১৮ মে আসমা চাপ দিয়ে স্বামীকে কালিহাতী থেকে ঢাকায় পাঠান। পরের দিন আবদুর রহমান ফোন করে আজহারকে মসজিদে আসতে বলেন। আজহার অফিস ছুটির পর সরাসরি মসজিদে যান। আবদুর রহমান আজহারকে তার কক্ষে বিশ্রাম নিতে পাঠান এবং বলেন, ‘আমি এশার নামাজ শেষ করে আসছি।’ পরে ইমামের কক্ষে দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্লান্ত শরীরে আজহার ঝিমুতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আবদুর রহমান পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আঘাত করতে গেলে আজহার টের পান এবং তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আজহার ইমামের কক্ষ থেকে পালানোর চেষ্টাকালে সিঁড়িতে পড়ে যান।

আবদুর রহমান সেখানে গিয়ে আজহারের গলার ডান দিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে গলা ও শরীরে আরও কয়েকটি আঘাত করেন। এরপর আবদুর রহমান লাশ টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে ছয় টুকরো করে ব্যাগে ভরে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। ঘটনার পর থেকে ইমাম নিজের কক্ষের পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী ঢাকা মাদ্রাসায় অবস্থান নেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আসমা জানানÑ আজহার তার তৃতীয় স্বামী। আগে দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আজহারের আপন বড় ভাই। ২০১৬ সালে পালিয়ে গিয়ে দেবর আজহারকে বিয়ে করেন। স্বামী হত্যায় আবদুর রহমানের পরিকল্পনায় আসমা সব ধরনের সহায়তা করেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত