বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সাড়া ফেলেছে গাজীপুরের কাকলী ফার্নিচার। গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় শ্রীপুর সড়কে এ ফার্নিচারের মালিক শখ করে এক মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র তার ফেইসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার পর তা এখন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাকলী ফার্নিচার নিয়ে ট্রল ও মিম নিয়ে মজে রয়েছে নেটিজেনরা। পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার, এই সময়, জি-২৪ ঘণ্টা, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইসহ গণমাধ্যমে স্থান পেয়েছে কাকলী ফার্নিচার।
নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ‘দামে কম মানে ভালো, কাকলী ফার্নিচার’ লাইনটি এখন আলোচনা-রসিকতার খোরাক।
তবে অনেকের কাছেই কাকলী ফার্নিচারের বিষয়টি অজানা। এক মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সবার আগ্রহ সৃষ্টি হয় কাকলী ফার্নিচার নিয়ে।
জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তার শ্রীপুর সড়কে কাঠের তৈরি ফার্নিচার বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন আলহাজ্ব মো. আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি। ছোট মেয়ে কাকলীর নামে গড়ে তোলেন প্রতিষ্ঠানটি। পরে সেই ব্যবসার হাল ধরেন তার ছেলে এসএম সোহেল রানা। ছোট বোন কাকলীর স্বামী মো. আমান উল্ল্যাহ্কে নিয়ে কাঠের তৈরি ফার্নিচারের পাশাপাশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য-নতুন ডিজাইনের ফার্নিচার নিয়ে নতুন উদ্যমে ব্যবসা শুরু করেন।
বর্তমানে মাওনা চৌরাস্তা, ময়মনসিংহ শহর ও ভালুকার স্কয়ার মাষ্টার বাড়ি এ তিনটি শোরুমের মাধ্যমে তিনি কাকলী ফার্নিচারের পণ্য বিক্রি করে থাকেন। এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত সামগ্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারিভাবেও বিক্রি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান এসএম সোহেল রানা একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
তিনি জানালেন, গত ৯ এপ্রিল দুই বোন, আট বছর বয়সী আতিকা ও নয় বছর বয়সী মাইশাকে নিয়ে তাদের মা এসেছিলেন মাওনা চৌরাস্তায় কাকলি ফার্নিচারের শোরুমে কেনাকাটা করতে। তাদের মুখে ‘দামে কম মানে ভালো কাকলী ফার্নিচার’ স্লোগান ধরিয়ে দিয়ে একটি সোফাসেটের ওপর উঠে লাফাতে বলা হয়। পরে তিনি ফোনে নিজেই এক মিনিটের একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর ‘দামে কম, মানে ভালো কাকলী ফার্নিচার’ স্লোগানে বিজ্ঞাপনটি নেট মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর গত ১৮ মে বিকেলে তার ফোনে অনবরত ফোন আসতে থাকে। ফোনের কলার সবাই একটি স্লোগান দিচ্ছিল ‘দামে কম মানে ভালো কাকলী ফার্নিচার’। এরপর তিনি দেখেন তার ফেসবুকে পোস্ট করা বিজ্ঞাপনটির ভিউয়ার মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি জানান, কয়েক দিন ধরেই তার কাছে আসা অধিকাংশ ফোনই পশ্চিমবঙ্গের। তারা সেখানে কাকলী ফার্নিচারের শোরুম খুলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন। ট্রল ও মিম যাই হোক বাংলাদেশের একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে নিয়ে নেট মাধ্যমে আলোচনা হওয়ায় সোহেল রানা অভিভূত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমও ফোন করে তার অনুভূতি ও তার কাকলী ফার্নিচার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
সোহেল রানা বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের বোর্ড কিনে নিজস্ব ডিজাইনার দিয়ে নিজ বাড়ির পাশেই স্থাপিত কাকলী ফার্নিচারের কারখানায় ঘর ও অফিসের আসবাব তৈরি করি। নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত এসব আসবাব বাজারে অন্যান্য আসবাবের তুলনায় দামে কম ও মানে ভালো হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

তিনি বলেন, আমরা পারিবারিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘দামে কম, মানে ভালো কাকলী ফার্নিচার’ স্লোগানটি ব্যবহার করেছি। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিজ্ঞাপনটি আমার নিজের মোবাইল ক্যামেরায় কোনোমতে বানানো। তবে যে যেভাবেই নিক না কেন কাকলী ফার্নিচার এখন এপার বাংলা-ওপার বাংলার সবার মুখে মুখে। এটাই আমার বড় পাওয়া।
