ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতফেরত বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে গত এক মাসে ২৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আগমন অব্যাহত থাকায় করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের (ধরন) সংক্রমণ আতঙ্কে ভুগছে আখাউড়াবাসী। পাশাপাশি আখাউড়া সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী শনাক্ত হওয়ায় আখাউড়াবাসী ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
এদিকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে করোনা সংক্রমণ রোধে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক ও তাদের সহকারীদের করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া তাদের প্রবেশ সীমিতকরণ করতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পানামা হিলি স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ।
পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সব স্থল সীমান্ত পথ বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। তবে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরাও আসছেন। ভারত থেকে আসা এসব ব্যক্তিকে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন রাখা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩১ দিনে ১ হাজার ১২২ জন বাংলাদেশি ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৩৪ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। কোয়ারেন্টাইন পূর্ণ হওয়ার পর গতকাল পর্যন্ত মোট ৩৪১ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা ফিরে আসায় আখাউড়াবাসী তো করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
জেলার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘ভারতফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৩ জন করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। ভারতফেরতদের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় এজন্য আমরা যথাযথভাবে কোয়ারেন্টাইন মেইনটেন করছি।’
হিলিতে করোনা সনদ ছাড়া ভারতীয় চালকদের না আসতে চিঠি : দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নতুন করে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ বন্দরটিতে আমদানি করা পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক ও তাদের সহকারীদের করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া তাদের প্রবেশ সীমিতকরণ করতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে পানামা হিলি স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি সব নির্দেশনা মেনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু করোনার বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৩০-১৪০টি ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে। যার মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ জনের মতো ভারতীয় ট্রাকের চালক ও সহকারীরা দেশে প্রবেশ করছে। কিন্তু তারা কেউই করোনার টিকা না নিয়েই দেশে আসছে। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ভারত বা বাংলাদেশে কোথাও তাদের করোনা শনাক্তের জন্য কোনো পরীক্ষা করা হচ্ছে না। কঠোর নজরদারি ও বারবার অনুরোধ করার পরও অধিকাংশ ভারতীয় চালক ও সহকারীরা বন্দরে অবস্থানকালীন যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনীহা প্রকাশ করছে। যে কারণে হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক/কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারী সব অংশীজন করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিঠি পাঠানোর পর এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
