সুপার লিগে দারুণ অবস্থানের হাতছানি বাংলাদেশের

আপডেট : ২৮ মে ২০২১, ০১:২৬ এএম

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য আইসিসির নতুন প্রতিযোগিতা ওয়ানডে সুপার লিগ। ১৩ দলের মধ্যে সেরা ৮ দলের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকছে এ আসর দিয়ে। প্রথম আসরেই দারুণ অবস্থানে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই ১৩ দলের মধ্যে শীর্ষস্থানে আছে ৮ খেলায় ৫০ পয়েন্ট নিয়ে। অবশ্য এই অবস্থানে থাকা কঠিন বাংলাদেশের জন্য। তাতে কী! সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া সেরা ৮ দলের অন্তত ৪-৫-এ থাকার হাতছানি থাকছে বাংলাদেশের সামনে। সুপার লিগে আইসিসির ঠিক করে দেওয়া প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এরই মধ্যে দুই সিরিজ জিতে যাওয়ায় এই সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

সুপার লিগে এক দল ৮ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সিরিজ খেলবে। ৮ সিরিজের চারটি হোমে, চারটি প্রতিপক্ষের মাটিতে। প্রতি সিরিজে ৩টি করে ২৪ ম্যাচ, তার মানে ২৪০ পয়েন্ট। বাংলাদেশের ৮ প্রতিপক্ষ যথাক্রমে উইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অ্যাওয়ে সিরিজ। বাকি চার দলের সঙ্গে হোম সিরিজ। ইতিমধ্যে উইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ৫ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের সঙ্গে শেষ ম্যাচ জিতলে পাবে পূর্ণ ৬০ পয়েন্ট। সহজ প্রতিপক্ষ আছে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড। এ দুই সিরিজ থেকেও পূর্ণ পয়েন্ট অথবা কমপক্ষে ৪০ পয়েন্ট আশা করা যায়। তাছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অন্তত ২০ পয়েন্ট আশা করা যায়। আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সামনের অক্টোবরের সিরিজে ১০ পয়েন্ট আশা করতে পারে বাংলাদেশ। অ্যাওয়েতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে শক্ত সিরিজ থেকেও পয়েন্ট পেতে পারে বাংলাদেশ। কারণ, প্রোটিয়ারা আগের মতো শক্তিশালী নয়। পাকিস্তান তাদের মাটিতেই ২-১-এ সিরিজ জিতেছে। এ সিরিজ থেকেও যদি বাংলাদেশ ১০ পয়েন্ট পেতে পারে তাহলে মোট ১৬০ পয়েন্ট হয়। এই পয়েন্ট পেলে সহজেই সুপার লিগে ৪-৫ অবস্থানে থাকতে পারে বাংলাদেশ। সরাসরি ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তো পূরণ হবেই।

ক্যারিয়ারের সেরা ফিটনেস লেভেলে মাহমুদউল্লাহ

ভালো করার জন্য অনুশীলন-প্রস্তুতির বিকল্প নেই। মুশফিকুর রহিম-মাহমুদউল্লাহরা এই বাড়তি অনুশীলন আর প্রস্তুতি নিয়েই সেরা পর্যায়ে। মাহমুদউল্লাহ তো নিজেকে ক্যারিয়ারের সেরা ফিট অবস্থায় দেখছেন। মুশফিকু সব সময়ই ফিটনেস নিয়ে কাজ করেন। এ ছাড়া ছুটির মধ্যেও বাড়তি অনুশীলন ক্রিকেটারদের এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে বলে জানান মাহমুদউল্লাহ। উইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের সময় আলাদা অনুশীলন করেছিলেন এ অলরাউন্ডার।

সাম্প্রতিক সময়ে তরুণরা ভালো করছেন না। তাদের বাড়তি অনুশীলনের পরামর্শ মাহমুদউল্লাহর। ফিটনেস নিয়েও কাজ করার পরামর্শ দেন। সময়ে সময়ে তরুণদের সঙ্গে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা হয় বলে জানান তিনি, ‘ওদের সঙ্গে প্রায় সময়ই কথা হয়। আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ভালো লাগে। তাদের ভিউগুলোও আমার দিক থেকে চিন্তা করি। আমরা দলের জন্য সেরা আউটপুটটা দেওয়ার চেষ্টা করি। হয়তবা অনেক সময় আমরা ঠিকভাবে দিতে পারি, অনেক সময় পরি না বাট ইচ্ছেটা আমাদের সব সময়ই আছে।’

ব্যাটিংয়ে লোয়ার অর্ডারে নামেন মাহমুদউল্লাহ। প্রায়ই ২০-৪০ রানের মধ্যে ইনিংস খেলেন। কিন্তু সেসব ইনিংস মনে রাখার মতো হয় না। তা নিয়ে আক্ষেপ নেই অভিজ্ঞ এ অলরাউন্ডারের। বরং ফিটনেস ঠিক রেখে আরও এগোতে চান, ‘আমি লেট মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করি, অনেক সময় আমার ৩০-৪০ ও আনকাউন্টেবল হয়ে যায়। বাট আমি যেটা বললাম যে আমাকে পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করতে হয়। আলহামদুলিল্লাহ! মনে হয় যে ক্যারিয়ারের সেরা ফিটনেস লেভেলে আমি আছি। এটা নিয়ে গত দুই-তিন বছর ধরে আমি কাজ করছি। ফিট থাকার চেষ্টা করছি, রানিং হোক, জিম হোক, এক্সট্রা রানিং, এক্সট্রা জিম... ব্যালেন্সিং কাজ আমার অনেক বেশি করা লাগে, মেইনটেন্যান্স কাজ করা লাগে। তো এই জিনিসগুলো আমি করার চেষ্ট করি। চেষ্টা করি যেন ফিটনেসটা ভালো থাকে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত